Suvendu Adhikari:নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, মমতা সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে রাম নবমীর আগে ভগবান রামের মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনায় সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে বারবার ঘটছে এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই দুষ্কৃতীরা দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/22/west-bengal-supplementary-voter-list-security-election-campaign-2026/

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, রাম নবমীর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল ভগবান রামের একটি মূর্তি, যা অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ভেঙে দিয়েছে। তাঁর কথায়, রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্কৃতী এসে মূর্তির মাথা কেটে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সনাতনীদের দেবদেবীর মূর্তি বা মন্দিরে হামলা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, নন্দীগ্রামের ভেটুরিয়া এলাকায় ১২২ নম্বর বুথের কাছে ভেটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে রাম নবমীর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মূর্তি তৈরি হচ্ছিল। সেই মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে তিনি একে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কিছু ‘গুণ্ডা’ তৈরি করেছেন এবং তাঁদের ছত্রছায়াতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং ‘তোষণ নীতি’র কারণে রাজ্যে সনাতনীদের ধর্মীয় ভাবাবেগ বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দিনে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

শুভেন্দুর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল শিবিরের তরফে এই অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ধরনের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অন্যদিকে, ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিধানসভা কেন্দ্র।

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। নির্বাচন হবে দুই দফায়—প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের ভোট-রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।