নিউজ পোল ব্যুরো:লোকসভার অন্দরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম তীব্র সমালোচক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)। তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে দলীয় অন্দরে সাধারণ ধারণা ছিল, তিনি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল শিবিরের সঙ্গেই থাকবেন। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলনও দেখা গিয়েছিল সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলে। যুব তৃণমূলের সভাপতির পদে তাঁকে বহাল রাখা হয়েছিল, যা অনেকের কাছেই দলনেত্রীর আস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছিল।
আরও পড়ুন:TMC rebel faction:‘হয় অভিষেক, নয় জোড়াফুল’ মমতার দরবারে বিদ্রোহীদের ডেডলাইন!
কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। দিল্লিকেন্দ্রিক তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ গোষ্ঠী ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করতেই শেষ পর্যন্ত সেই শিবিরেই নাম লেখান সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)। সূত্রের দাবি, লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়া বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠিতেও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। এরপরই কার্যত রাতারাতি যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাই দিতে চেয়েছে।
তবে পদচ্যুতির পর প্রকাশ্যে কোনও ক্ষোভ বা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাননি সায়নী। বরং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে অত্যন্ত সংযত সুরে তিনি বলেন, ‘‘আমি আপনাদের কোনও জবাব দেব না। জবাব দেব শুধু আমার এলাকার মানুষকে।’’ সংক্ষিপ্ত হলেও এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে উঠে আসছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য। জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী শিবিরে সায়নী ঘোষকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে প্রথমদিকে আপত্তি ছিল দলেরই একাংশের সাংসদদের। সেই তালিকায় ছিলেন শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া-সহ কয়েকজন প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সায়নীর রাজনৈতিক আচরণ, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং অতিসক্রিয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি রয়েছে।
ফলে তাঁকে নতুন গোষ্ঠীর অংশ করা হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল মতভেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে আপত্তি সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের খবর, দিল্লিতে সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক— যা রাজনৈতিক মহলে ‘চা-চক্র’ নামে পরিচিত— সেই অচলাবস্থা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেখানে উপস্থিত নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, ব্যক্তিগত মতভেদ নয়, সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বৈঠকের পরই সায়নীকে নিয়ে আপত্তির বরফ গলতে শুরু করে এবং বিদ্রোহী শিবিরে তাঁর যোগদানের পথ প্রশস্ত হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২ জুন পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন সায়নী ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচির ভিডিওও তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই আচমকাই নীরব হয়ে যান তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই নীরবতা নিছক কাকতালীয় ছিল না; বরং দলের অন্দরে চলতে থাকা সমীকরণ পরিবর্তনেরই পূর্বাভাস ছিল।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর যাদবপুরের সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ হারানোর পর তিনি কীভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, এলাকার মানুষের কাছে কী বার্তা পৌঁছে দেন এবং দিল্লিকেন্দ্রিক এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে— সেই উত্তর খুঁজতেই অপেক্ষা রাজনৈতিক মহলের।
