TMC rebel faction:‘হয় অভিষেক, নয় জোড়াফুল’ মমতার দরবারে বিদ্রোহীদের ডেডলাইন!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং নির্বাচনী ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলীয় সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে শর্ত রাখল দলের বিদ্রোহী শিবির (TMC rebel faction)। তাদের সাফ বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবমুক্ত তৃণমূল হলে তবেই তাঁরা মমতার নেতৃত্ব মেনে চলবেন। অন্যথায় ‘জোড়াফুল’ প্রতীককে ঘিরে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে প্রস্তুত তাঁরা।

আরও পড়ুন:Suvendu Adhikari:স্বচ্ছতা অভিযানের সূচনায় সোমবার কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, প্রশাসনিক বৈঠকের সম্ভাবনা!

রবিবার প্রকাশ্যে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন বিদ্রোহী শিবিরের (TMC rebel faction) অন্যতম মুখ, প্রাক্তন মন্ত্রী ও রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। তিনি বলেন, “অভিষেকের হাত ছাড়লে তবেই আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা তাঁর সঙ্গেই আছি। কিন্তু অভিষেক থাকলে আমরা নেই।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক কৌশলেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং বিভাজনের সুর শোনা যাচ্ছিল। সেই আবহে বিধানসভা থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ ‘নব্য তৃণমূল’। সময়ের সঙ্গে সেই অসন্তোষ আরও সংগঠিত রূপ নিয়েছে।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন ইতিমধ্যেই দলীয় নির্দেশ অগ্রাহ্য করে পৃথক ফ্রন্টের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়েই বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে রয়েছেন আখরুজ্জামান। তাঁদের দাবি, আগামী দিনে আরও বিধায়ক এই শিবিরে যোগ দিতে পারেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহীরা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করেননি। তাঁদের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের সাংগঠনিক মডেল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু দলনেত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেননি।

আখরুজ্জামানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী শিবিরের মূল লড়াই এখন দলীয় উত্তরাধিকার, নেতৃত্বের কাঠামো এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে।

বিক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি, তাঁদের শর্ত মানা না হলে তাঁরা সাংগঠনিক ও আইনি—দুই স্তরেই লড়াই চালাবেন। এমনকি জোড়াফুল প্রতীকের উপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাঁরা।

ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ এই সংঘাত আগামী দিনে আরও গভীর রাজনৈতিক সংকটের রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।