নিউজপোল ব্যুরোঃ রবিবারের দিল্লি দেখল এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক অধ্যায়। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার জাতীয় রাজনীতিতেও তৈরি হল নতুন চমক। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খায় তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষের জল্পনা বাড়ছিল। রবিবার সেই জল্পনাই যেন নতুন মাত্রা পেল।
রবিবার দিল্লির বুকে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ আচমকা একজোট হয়ে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজেদের নতুন সিদ্ধান্তের কথা সাফ জানিয়ে দেন। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন যে, তাঁরা আর তৃণমূলে নেই এবং তাঁরা হাত মিলিয়েছেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা NCPI-এর সঙ্গে। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে এক নতুন প্রশ্ন উঠে এসেছে— NCPI আসলে কোন দল? হঠাৎ রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রে আসা এই NCPI মূলত ত্রিপুরার একটি ছোট রাজনৈতিক দল, যারা ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনেও দলটি অংশ নিয়েছিল। যদিও নির্বাচনী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু রবিবার তৃণমূলের ২০ জন হেভিওয়েট সাংসদ এই ছোট দলের ছাতার তলায় আসতেই রাতারাতি দেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে।
ত্রিপুরার এই ছোট দলটিকে সঙ্গী করে কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন তা সময়ই বলবে। নতুন দল হিসেবে NCPI কতটা সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে পারে এবং জাতীয় স্তরে কতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। একসময় তৃণমূলের পরিচয়ে নির্বাচিত হওয়া ২০ জন সাংসদ এখন নতুন দলের পতাকার তলায়। তবে রবিবারের এই ঘটনা যে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
