নিউজপোল ব্যুরো: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় সিদ্ধান্ত। এবার থেকে শুধু বিনামূল্যে বেড দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না বেসরকারি হাসপাতালগুলির। সংরক্ষিত কোটায় ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও বহন করতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই। শনিবার স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বার্তাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম দফায় কলকাতার ১৭টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ৬৬০টি বেড সরকারি পরিষেবার জন্য সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল নীতিগতভাবে প্রায় ১২০০টি বেড সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ফলে বহু গরিব ও অসহায় রোগী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।
শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, রোগীদের জন্য বেড চার্জ, চিকিৎসকের ফি, অস্ত্রোপচারের খরচ, ওষুধ, কনজিউমেবলস-সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যয় হাসপাতালকেই বহন করতে হবে। কোনওভাবেই রোগী বা তাঁর পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না।
এছাড়াও জরুরি বিভাগের রোগীদের ফেরানো নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। হাসপাতালগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ইমার্জেন্সি রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।
স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, সরকারি জমি বা বিশেষ সুবিধা পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলির উপর দীর্ঘদিন ধরেই গরিব রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষেবা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবার সেই নিয়ম বাস্তবে কার্যকর করতেই কড়া নজরদারি শুরু হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বহু সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে যাঁরা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে ভয় পেতেন, তাঁদের কাছে এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আশা করছেন। স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও মানুষের নাগালে পৌঁছবে বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে কার্যকর হলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় অনেকটাই কমবে। ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
