নিউজপোল ব্যুরো: প্রাক্তন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের জীবনে হাড়হিম করা ধাক্কা! আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুলিশ অফিসারদের গায়ে হাত তোলা এবং তাঁদের ধাক্কা মারার মতো অতি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে এবার মারাত্মক এফআইআর (FIR) দায়ের হলো অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে।
হুগলির শ্রীরামপুর থানায় এই চাঞ্চল্যকর মামলা রুজু হতেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে রীতিমতো কাঁপন ধরে গিয়েছে। লালবাজার ও জেলা পুলিশের মনোভাব দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আইনের এই বিধ্বংসী খাঁড়া থেকে এবার রেহাই পাওয়া কার্যত অসম্ভব। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল, যার জন্য একজন প্রাক্তন নারী সাংসদকে এভাবে থানার দোরগোড়ায় এসে দাঁড়াতে হচ্ছে?
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে প্রকাশ্যেই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন অপরূপা পোদ্দার। ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের ওপর চড়াও হওয়ার ভিডিও ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এই নজিরবিহীন গাফিলতি ও ঔদ্ধত্যের জবাব চাইতেই আগামীকালই তাঁকে শ্রীরামপুর থানায় সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে প্রশাসন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামীকাল শ্রীরামপুর থানার সেই অন্ধকার জেরা কক্ষে ঢুকে পুলিশের প্রশ্নের মুখে কী জবাব দেবেন এই দাপুটে নেত্রী? নাকি ‘ভাইপো’ ও পার্থবাবুর মতো তিনিও হুট করে কোনো শারীরিক অসুস্থতার বা বাহানা খাড়া করবেন? আগামীকালই কি তবে সোজা শ্রীঘরের চার দেওয়ালের দিকে পা বাড়াতে হবে অপরূপাকে, এখন নজর সেদিকেই।
