Chalo Sansad:শর্তসাপেক্ষেই অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক, সংসদ অভিযানের আগের রাতে বড় বার্তা গীতাঞ্জলীর!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার প্রস্তাবিত ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad) কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা এই কর্মসূচির অনুমতি দিল্লি পুলিশ না দিলেও, আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহের আমরণ অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ।

আরও পড়ুন:FIFA World Cup 2026 Final:’থিয়েটারে কেরল, জায়ান্ট স্ক্রিনে বাংলা’! বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে দুই রাজ্যের নজিরবিহীন উদ্যোগ!

রবিবার গভীর রাতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো জানান, সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনায় দায়বদ্ধতা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ইস্যু সংসদের ভিতরে উত্থাপনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব যদি প্রকাশ্য ও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন, তবেই ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করবেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নেতারা সফদরজং হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংসদে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে সোমবারই অনশন ভাঙবেন তিনি।

গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, সোনম ওয়াংচুকের কাছে অনশন কোনও চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের মাধ্যম। সেই কারণেই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রতিফলন নিশ্চিত না হলে অনশন প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে, সোমবার সকাল ৯টায় নির্ধারিত ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad) কর্মসূচিকে সামনে রেখে রবিবার রাত থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারীরা রাজধানীতে এসে জড়ো হন। সিজেপির দাবি, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে চালু করা ‘মিসড কল’ প্রচারে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, রবিবার রাতেই ২০ হাজারের বেশি সমর্থক যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন এবং সোমবারের কর্মসূচির আগে আরও বহু মানুষ সেখানে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক দিপকে এক ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের রাতভর যন্তর মন্তরে অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর আশঙ্কা, আন্দোলনকারীরা এলাকা ছেড়ে গেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জমায়েত ভেঙে দিতে পারে। একইসঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ যদি জোরপূর্বক আন্দোলনকারীদের সরিয়েও দেয়, তবুও সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় সোনম ওয়াংচুকের অনশন অব্যাহত থাকবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

অন্যদিকে, সিজেপির তরফে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ করা একাধিক পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলন দমনে পুলিশ এলাকায় কাঁদানে গ্যাসের সরঞ্জাম মজুত করছে এবং আন্দোলনকে কলুষিত করার উদ্দেশ্যে কিছু সমাজবিরোধী উপাদানকে ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করানোরও আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

রবিবারই দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘চলো সংসদ’ অভিযানের জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাদল অধিবেশন চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। ফলে পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভ আইনত নিষিদ্ধ। পুলিশ সতর্ক করেছে, নির্দেশ অমান্য করা হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২২৩ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। ইতিমধ্যেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট, সেন্ট্রাল ভিস্তা, কনট প্লেস-সহ গোটা সংসদ চত্বরকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

এদিকে, সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও দীর্ঘ অনশনের প্রভাবে রক্তের বিভিন্ন উপাদানে এখনও অস্বাভাবিকতা রয়ে গিয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর চিকিৎসকদের একটি বহুবিভাগীয় বিশেষজ্ঞ দল সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও ওয়াংচুক এখনও খাদ্য গ্রহণে অনড়। এদিকে, তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে পরিবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।