নিউজপোল ব্যুরো: রক্ত মানুষের জীবন বাঁচায়। কিন্তু সেই রক্ত নিয়েই যদি কোটি টাকার ব্যবসার অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। কলকাতার যোধপুর পার্কের একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগের পরই স্বাস্থ্য মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, হাজার হাজার ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা এবং বিপুল পরিমাণ প্লাজমা বিহার, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা ছুঁয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রের দাবি। শুধু তাই নয়, একাধিক বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছেও প্লাজমা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযোগ রয়েছে যে রক্তদান শিবিরে চিকিৎসক পরিচয়ে যাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আসলে মেডিক্যাল পড়ুয়া ছিলেন। এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই স্বাস্থ্য দফতর ওই ব্লাড ব্যাঙ্ককে আপাতত নতুন রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর আগেও অন্য একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় এফআইআর হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এবার নতুন অভিযোগ সামনে আসায় স্বাস্থ্য দফতর আরও কড়া নজরদারি শুরু করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, অন্তত কয়েকটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জরুরি সময়ে ব্লাড ব্যাঙ্কে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে ডোনার ছাড়া রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তদন্তে যদি কোটি টাকার রক্ত ও প্লাজমা বিক্রির অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে— জীবন বাঁচানোর জন্য দেওয়া রক্ত কোথায় যাচ্ছে? উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলছে।
