নিউজপোল ব্যুরো: যে আন্দোলনের ভিত্তি হওয়া উচিত ছিল শিক্ষা, যুক্তি আর প্রগতি—আজ কিছু অশিক্ষিত, রাজনৈতিক জ্ঞানহীন এবং উগ্র লোক সেই আদর্শের ঝাণ্ডা ধরে রাজপথে বিপ্লবী সাজতে নেমেছে! যারা জীবনে কোনোদিন একটা খবরের কাগজ উলটে দেখার বা দেশ-দুনিয়ার খবর রাখার প্রয়োজন বোধ করেনি, তারাই আজ মাঠ কাঁপানোর নামে চূড়ান্ত তাণ্ডব চালাল। আর তাদের এই তথাকথিত বিপ্লবের ভয়ঙ্কর নমুনা? ডোরিনা ক্রসিংয়ে লাইভ কভারেজের মাঝেই সংবাদমাধ্যমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করা!
উসকানিমূলক আচরণের চরম সীমানায় পৌঁছে আন্দোলনকারীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ছোড়ে জলভর্তি বোতল, জুতো, লাঠি এমনকি পাথর! একের পর এক ইটের আঘাতে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন একাধিক সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক। যে সত্য প্রকাশ করতে দিনরাত এক করে মাঠে থাকেন সংবাদকর্মীরা, সেই সত্যকে গলা টিপে মারতেই কি এই বোতল ও পাথরের বৃষ্টি? পেশাগত কাজে গিয়ে যদি এভাবে গণমাধ্যমকে রক্তাক্ত হতে হয়, তবে সংবিধানে দেওয়া বাক স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র আসলে কোথায়?
হাতে একটা রাজনৈতিক পতাকা থাকলেই কেউ সচেতন বা পরিপক্ব হয়ে যায় না, তার আসল প্রমাণ মেলে কাজের আচরণে। যারা সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন হিংসাত্মক হামলা চালায়, তারা আর যাই হোক কোনো সুস্থ বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিনিধি হতে পারে না। বোতল ছোড়া, ভাঙচুর কিংবা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো কোনো ন্যায়ের লড়াই নয়; বরং তা আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্যকেই ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। এই নগ্ন ও বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে দাবি উঠছে—অবিলম্বে প্রতিটি হামলাকারীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি দেওয়া হোক! মতের অমিল হাজার থাকতে পারে, কিন্তু সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের রক্ত ঝরা কোনো সভ্য সমাজেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়!
