বীরভূমে এবার টাকার সাথে সোনার পাহাড়! সাড়ে ২৮ কোটি ক্যাশ ও ১৫ কেজি সোনাসহ মিনারকে খাঁচায় পুরল পুলিশ!

breakingnews অপরাধ আইন রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: টাকা আর টাকা, চারদিকে শুধু ৫০০ টাকার বান্ডিলের পাহাড়! গুনে শেষ করা অসম্ভব দেখে শেষমেশ ব্যাঙ্ক থেকে নোট গোনার যন্ত্র এনে হিসাব মেলাতে হলো পুলিশকে। বীরভূমের মহম্মদবাজারের এক সময়ের সাধারণ বাসচালক মিনার মণ্ডলের ঘরে অভিযান চালিয়ে তাজ্জব বনে গেলেন তদন্তকারীরা। জোড়া আলমারি আর খাটের তলা থেকে বেরিয়ে এল সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজির খাঁটি সোনার বার! সব মিলিয়ে বাজারদর হিসাব করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি। একদা সরকারি বাস চালানো মিনার কীভাবে এমন প্রভূত সম্পত্তির মালিক হলেন, তা নিয়েই এখন তোলপাড় পুরো বীরভূম।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদবাজার এলাকার এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে উদ্ধার হয় কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু তল্লাশি যত এগোয়, ততই বাড়তে থাকে টাকার অঙ্ক। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ পৌঁছয় প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকায়। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৫ কেজি সোনার বার। সব মিলিয়ে এই উদ্ধার রাজ্যের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অভিযান বলেই মনে করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাড়ির একাধিক লোহার আলমারিতে শুধুই টাকার বান্ডিল রাখা ছিল। কোথাও জামাকাপড় নেই, কোনও ব্যক্তিগত জিনিস নেই। শুধু ব্যাগের পর ব্যাগ ভর্তি নগদ টাকা। এমনকি খাটের ভেতর থেকেও উদ্ধার হয়েছে টাকা ও সোনা। এত টাকা গুনতে হাত নয়, আনতে হয়েছে টাকা গোনার মেশিন। যাঁর বাড়ি থেকে এই বিপুল সম্পদ উদ্ধার হয়েছে, তিনি একসময় সরকারি বাস চালাতেন বলে জানা যাচ্ছে। পরে পাথর ব্যবসায় নামেন। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর আর্থিক অবস্থার বড় পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তনের পিছনে কী ছিল, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় পাথর ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় চক্রের যোগ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক নথি, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তিনটি— এই বিপুল টাকা কোথা থেকে এল? কারা এর আসল মালিক? আর এর সঙ্গে কি আরও বড় কোনও আর্থিক বা সিন্ডিকেট চক্র জড়িয়ে রয়েছে?এই মুহূর্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্তে আরও বড় নাম সামনে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। বীরভূমের এই অভিযান যে রাজ্যের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।