নিউজপোল ব্যুরো: ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি রিলসই হয়ে উঠল সবচেয়ে বড় সূত্র। সেই ভিডিওর ভিত্তিতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ তিন কিশোরীকে সম্ভাব্য পাচারের হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ঘটনাটি শুরু হয় ২৭ জুলাই সন্ধ্যায়। রাত আটটার কিছু আগে পঞ্চসায়রের শহিদ স্মৃতি কলোনি এলাকার তিনটি পরিবার থানায় পৌঁছে জানায়, তাদের তিন কিশোরী মেয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেনি। তিনজনই একই এলাকার বাসিন্দা এবং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
প্রথমে পুলিশ জানতে পারে, তিন কিশোরীর মধ্যে একজনের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে। সেই ফোনের টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, মোবাইলের অবস্থান হাওড়া স্টেশনের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। তবে শুধু এই তথ্য যথেষ্ট ছিল না। তাই আরও তথ্য সংগ্রহ করতে পরিবারের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন তদন্তকারী অফিসারেরা। আলোচনার সময় পরিবারের সদস্যরা জানান, উত্তরপ্রদেশে এক পরিচিত বান্ধবীর সঙ্গে কিশোরীদের যোগাযোগ ছিল। এরপর পুলিশ জানতে চায়, তাদের কারও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আছে কি না। তখন জানা যায়, এক কিশোরীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করতেই তদন্তে বড় মোড় আসে। সেখানে একটি ছোট রিলস দেখা যায়, যেখানে একটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দৃশ্য ছিল। এই ভিডিও দেখেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
এরপর পঞ্চসায়র থানার একটি বিশেষ দল দ্রুত হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেয়। একই সঙ্গে হাওড়া জিআরপি-র সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় এবং তিন কিশোরীর ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্টেশনে খোঁজ চালিয়ে জানা যায়, তিন কিশোরীর কাছে কোনও বৈধ টিকিট ছিল না। পরে উত্তরপ্রদেশে থাকা ওই পরিচিত ব্যক্তি অনলাইনে টাকা পাঠিয়ে জরিমানার অর্থ এবং ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করে। কিন্তু ট্রেনে ওঠার আগেই পুলিশ ও জিআরপি যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পুলিশের তৎপরতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ছোট রিলসের সূত্র মিলিয়ে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হল, প্রযুক্তি যেমন ভুল পথে ব্যবহার হতে পারে, তেমনই সঠিক সময়ে তার সাহায্যে মানুষের জীবনও রক্ষা করা সম্ভব।
