নিউজপোল ব্যুরো: নগদ টাকা, সোনা, জমি, ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানত থেকে শুরু করে জাল DCR ছাপানোর প্রিন্টিং মেশিন— তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে এবার আরও বড় সাফল্য পেল পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এখনও পর্যন্ত নগদ টাকা, সোনা, জমি এবং ব্যাঙ্কে থাকা অর্থ মিলিয়ে প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। কয়েক দিন আগে টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছিল। এরপর একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করে। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
রবিবার এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হওয়া জাল DCR চক্রের অন্যতম সদস্য জগন্নাথ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মালদার মঙ্গলবাড়ি এলাকায় টুলু মণ্ডলের একটি গোপন সিমেন্ট গোডাউনে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে বস্তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা একটি প্রিন্টিং মেশিন উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই মেশিন ব্যবহার করে ভুয়ো DCR বা রসিদ ছাপানো হত। সেই জাল নথি ব্যবহার করে বালি ও পাথর বোঝাই লরি থেকে সরকারি কর ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রেফতারি হয়েছে। পুলিশ সীতেশ প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তিনি দীর্ঘদিন টুলু মণ্ডলের পাথর ক্রাশারের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। প্রতিদিন কত পাথর বিক্রি হত, কীভাবে নগদ টাকার লেনদেন চলত এবং সেই অর্থ কোথায় যেত, তা জানার জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডল, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার নামে ৪০০ বিঘারও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৩৩ একর জমির খোঁজ মিলেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা প্রায় ৩৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটও চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা আটকাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
