শুধু ৪ লাইনেই শেষ হবে না বীরগাথা! প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ক্ষুদিরামের ইতিহাস পড়ানোর মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

breakingnews রাজনীতি রাজ্য শিক্ষা

নিউজপোল ব্যুরো: বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে মেদিনীপুরের মাটি থেকে এক বড় ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর জন্মস্থানে আয়োজিত বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যের পাঠ্যবইয়ে এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে মাত্র কয়েক লাইনে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পাঠ্যসূচিতে ক্ষুদিরামের আপসহীন লড়াই, তেজ এবং ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে গাইতে ফাঁসির মঞ্চে ওঠার বীরত্বগাথা বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষা দপ্তরকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করার পর আবেগঘন গলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগের সরকার ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, যার মাটিতে ক্ষুদিরামের মতো বীরের জন্ম, সেই মোহবনি তথা কেশপুরের সার্বিক উন্নয়নে নামমাত্র উন্নয়ন পর্ষদ গড়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ বা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ফোন পেয়েই ক্ষুদিরামের ভগ্নপ্রায় পৈতৃক ভিটের রূপবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ভিটে সংস্কারের পাশাপাশি সেখানে বিশ্বমানের মিউজিয়াম, আর্ট গ্যালারি, লেজার লাইট শো এবং গবেষকদের থাকার জন্য আধুনিক গেস্ট হাউসের বন্দোবস্ত করা হবে।

এই স্বপ্নপূরণে জেলাশাসককে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (DPR) তৈরির নির্দেশ দিয়ে প্রাথমিক ধাপে মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের হাতে পাঁচ কোটি টাকার তহবিল তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অক্টোবর মাসে বর্ষা মিটলেই দ্রুত টেন্ডার ডেকে পুরোদমে কাজ শুরু করতে হবে এবং আগামী বছর এই দিনে তাঁর মোহবনি সফরের আগেই যেন সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়। অর্থের কোনো অভাব হবে না আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আগামী দিনে আরও টাকার প্রয়োজন হলেও রাজ্য সরকার তা সানন্দে যোগান দেবে।