নিউজ পোল ব্যুরো:রামপুরহাটের পাঁচ বারের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। রবিবার সকালে বাড়ি লাগোয়া কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশের পাশাপাশি মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র বা চাপ কাজ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikar)।
আরো পড়ুন:Agnimitra Paul:’২৪ ঘণ্টার সময়সীমা’ ফুটপাত দখলমুক্ত করার কড়া নির্দেশ অগ্নিমিত্রা পালের!
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Asish Banerjee) ছিলেন একজন খাঁটি, সজ্জন, মার্জিত ও শিক্ষিত রাজনীতিবিদ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের ‘মমতাপন্থী’ অংশের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার কারণে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠী তাঁকে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করেছিল কি না, তদন্তে সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রয়াত নেতার মোবাইল ফোনের কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) পরীক্ষা করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অসিত মালের ফোন থেকে ভিডিও কলে আশিসবাবুর স্ত্রী, দিদি এবং ৮৪ বছর বয়সি দুই প্রবীণ দাদার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত তাঁদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার কথাও জানান তিনি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ২০০৬ সালের কথা স্মরণ করেন। তাঁর কথায়, সেই সময় রাজ্যে বিরোধী বিধায়কের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা; তাঁদের মধ্যেই ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় একাধিকবার তাঁর সততা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছিলেন বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আশিসবাবু তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কলকাতায় এসে সাক্ষাতের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, আশিসবাবুর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদেরও সুসম্পর্ক ছিল বলে পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটে জয়ী হওয়ার পর বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা আশিসবাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে, তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ কিংবা পুলিশের তরফে আশিসবাবুকে কোনওদিন নোটিস দিয়ে হয়রানি করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বীরভূমের পুলিশ সুপারকে গোটা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। প্রয়াত নেতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যও পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি একটি কমিটি থেকে পদত্যাগ করে আশিসবাবু কার্যত দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাঁর নাম কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোবাইলের কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখলে সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁর মত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া এক পাতার কথিত ‘সুইসাইড নোট’-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, বগটুই-কাণ্ড এবং বালি মাফিয়াদের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের নিচুতলার কোনও কর্মী বা অনুগামীর অপকর্মের দায় আশিসবাবুর মতো একজন সজ্জন নেতার উপর চাপানো সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে দেখার আগে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, মোবাইলের কল রেকর্ড এবং উদ্ধার হওয়া নোট—সমস্ত দিক সমন্বিতভাবে খতিয়ে দেখার উপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, এই মৃত্যুর নেপথ্যে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি এর সঙ্গে কোনও চাপ, হুমকি কিংবা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে।
