নিউজ পোল ব্যুরো:‘বন্দে মাতরম্’-এর মতো ঐতিহাসিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীককে অবমাননা করা মানে শুধু একটি গানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন নয়, বরং দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং তার স্রষ্টা সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানকেও অপমান করা—এমনই অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গবাসীর পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানানো হবে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন:Suvendu Adhikari:‘সজ্জন আশিসবাবুর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক’, ভিডিও কলে পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী!
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের সময় সনিয়া গান্ধী যে ধরনের বিরক্তি, আপত্তি ও বিরোধিতার মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তা গোটা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার এবং পরবর্তী সময়ে সেই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আর আড়াল করার কোনও অবকাশ নেই। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হলেও দৃশ্যমান ঘটনাকে অস্বীকার করা সম্ভব নয় বলেই দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) উল্লেখ করেন, বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ পালনের পর্ব চলছে। এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ সময়কে সামনে রেখে দেশজুড়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতীককে সম্মান জানাতে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভারত সরকারের তরফেও জাতীয় গানের মর্যাদা ও সম্মান সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার ও সরকার-পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি বছরেই রাজ্যে জাতীয় মানের একটি ‘বন্দে মাতরম্ মিউজিয়াম’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
ঘটনার প্রতিবাদে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলেও সাংবাদিক বৈঠকে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিবাদ জানানোয় এখন কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এ বিষয়ে রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করার বিশেষ কিছু নেই। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সদস্যের চিঠির পর সনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খড়্গে কী প্রতিক্রিয়া জানান, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের অমর সৃষ্টি ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত এই গান পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম্’ স্বদেশি আন্দোলন ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। বিপিনচন্দ্র পালের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় স্বদেশি, বয়কট এবং ‘বন্দে মাতরম্’—এই তিনটি শব্দই স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
সবশেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাষ্ট্রবাদ, দেশপ্রেম, ‘বন্দে মাতরম্’ এবং ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদানকে যারা অসম্মান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গবাসীর পক্ষ থেকে নিন্দা ও ধিক্কার জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানান তিনি।
