নিউজপোল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ছাত্র রাজনীতির সংঘাত এবার আরও তীব্র। বুধবার রাতের সংঘর্ষের রেশ কাটার আগেই আজ ফের রাস্তায় মুখোমুখি অবস্থান ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির। একদিকে ABVP-র ‘যাদবপুর চলো’ অভিযান, অন্যদিকে ৮বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাম ছাত্রদের জমায়েত। দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগ ওঠে দু’পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরেই।
আজকের ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেট। আন্দোলনকারীদের একাংশ গেটের উপর উঠে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে খবর। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে থাকা প্রতীকের লোহার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতীককে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ বলে মনে করেন বহু পড়ুয়া ও অধ্যাপক। ফলে আন্দোলনের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এক অধ্যাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস এবং স্বদেশি আন্দোলনের স্মৃতি। সেই ঐতিহ্যের প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও আন্দোলনের উত্তেজনায় কি একটি প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সম্পত্তির ক্ষতি মেনে নেওয়া যায়?
এই সংঘাতের সূত্রপাত বুধবার রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেল বডি মিটিংকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিতর্ক শুরু হয়। ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও এই সভা ডাকা নিয়ে আপত্তি জানায় ABVP। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গেলে সংগঠনের ইউনিট সভাপতি নিখিল দাস এবং দীপ্তিমান কর-সহ কয়েকজন সদস্য আক্রান্ত হন। অন্যদিকে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, ABVP সমর্থকরা পরে ক্যাম্পাসে ঢুকে উত্তেজনা বাড়ান। সংঘর্ষের আবহে SFI-র পতাকা ও পোস্টারে আগুন ধরানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ‘লাল সেলাম’ স্লোগানের রাজনীতির মধ্যেই বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পতাকা জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তবে এই ঘটনার দায় ও পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা, তাই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
বুধবার রাতে চার নম্বর গেট ধাক্কা দিয়ে খোলা, বিভিন্ন সংগঠনের পতাকা-ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। বাম ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ, কয়েকজন পড়ুয়া মারধরের আশঙ্কায় অরবিন্দ ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে ABVP-র দাবি, তাদের কর্মীদের উপর প্রথমে হামলা চালানো হয়েছিল। আজ ৮বি থেকে চার নম্বর গেট পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ‘লাল সেলাম’-এর রাজনীতির মাটিতে জ্বলল পতাকার আগুন, ভাঙল ব্যারিকেড, ক্ষতিগ্রস্ত হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক—এবার যাদবপুরের সংঘাত কি শুধু ছাত্র রাজনীতির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বড় অশান্তির দিকে এগোবে?
