রাতের কলকাতায় হাড়হিম করা শ্যুটআউট! জোড়াবাগানের মণ্ডল স্ট্রিটে ভায়রা ভাইকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি

breakingnews অপরাধ কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: রাতের শহর যখন প্রায় নিস্তব্ধ, তখনই পরপর গুলির শব্দে চমকে উঠল জোড়াবাগানের মণ্ডল স্ট্রিট। অভিযোগ, সন্তোষ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান কার্তিক সোনকার ওরফে খরগোশ। গুলিতে গুরুতর জখম হন সন্তোষ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ ও কার্তিকের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা পরস্পরের ভায়রা ভাই। প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে আচমকা পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, নর্থ পোর্ট থানা এলাকার পাথুরিয়াঘাটে কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে ছিলেন সন্তোষ। সেই সময় সেখানে কার্তিক সোনকার হাজির হন। প্রথমে কয়েক রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করার পর সন্তোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। গুলিটি সন্তোষের পেটে লাগে। এরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, গুলি চালানোর পরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান কার্তিক। স্থানীয়রাই দ্রুত আহত সন্তোষকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ ও কার্তিকের স্ত্রীরা সম্পর্কে দুই বোন। কার্তিকের স্ত্রীর সঙ্গে সন্তোষের একটি বিবাদ চলছিল বলে পরিবারের দাবি। সেই পারিবারিক অশান্তি নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে সেই বিবাদই গুলি চালানোর মূল কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ঘটনার পর নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কী কী তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং গুলি চালানোর সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাতের কলকাতায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।