নিউজপোল ব্যুরো: একটা গোটা বাজার ছিল। ছিল দোকানপাট, অফিস, মানুষের ভিড়, রাস্তায় চলত বাইক-গাড়ি। আর এখন? চারদিকে শুধু কাদা, ধ্বংসস্তূপ আর ভাঙাচোরা বাড়ির চিহ্ন। নেপালের ত্রিশূলি বাজার যেন কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবেই মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছে। সরকারি অফিসপাড়াতেও ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। হড়পা বানের জলে কাদার নীচে চলে গিয়েছে কৃষি বিকাশ ব্যাঙ্কের একতলা ভবন। পরিস্থিতি সামলাতে নেপালের বিদেশ মন্ত্রকে খোলা হয়েছে Emergency Control Room।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নিখোঁজ মানুষদের নিয়ে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫-এ পৌঁছেছে। এখনও প্রায় আড়াই হাজার মানুষের খোঁজ চলছে। তাঁদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ১৬৩ জন বিদেশির সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের তালিকায় প্রায় ১১৩ জন ভারতীয়, ২৬ জন চিনা, ১৫ জন দক্ষিণ কোরীয় এবং জার্মানি, ইতালি ও আমেরিকার নাগরিকরাও রয়েছেন। ত্রিশূলি নদীর তীরের ধুঙ্গে গ্রামের ছবিও আরও ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে। প্রবল জলের তোড়ে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। একই অবস্থা নবাকোট জেলার ত্রিশূলি বাজারে। কাদার মোটা আস্তরণে আটকে রয়েছে বাইক, ভেঙে পড়েছে একাধিক বাড়ি। যে বাজারে কয়েক দিন আগেও মানুষের ভিড় ছিল, এখন সেখানে শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন।
এর মধ্যেই হাইড্রোপাওয়ার টানেলগুলিতে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। রসুয়া ও ত্রিশূলি এলাকা থেকে ১৯১ জন শ্রমিককে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। কিন্তু নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন লক্ষ্য একটাই—যত দ্রুত সম্ভব নিখোঁজদের সন্ধান, আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বিপর্যস্ত এলাকাগুলিকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো। নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর প্রতিটি ঘণ্টাই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
