দেড় মাসেরও বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছেন। লাহেকের মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল আদালতে।
বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই অশান্তির সময় উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। এরপর গত ১২ জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেফতারের পর থেকে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও এতদিন তা মঞ্জুর হয়নি। প্রায় ৫০ দিন জেলবন্দি থাকার পর মায়ের গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সামনে রেখে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন লাহেকের আইনজীবীরা।
আরও দেখুন :- জাতীয় সড়কের টোল দুর্নীতি, কলকাতায় ইডির তল্লাশি
আদালতে জানানো হয়, লাহেকের মা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। পারিবারিক এই জরুরি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে কলকাতা হাইকোর্ট।
তবে জামিন পেলেও লাহেক আলির উপর একাধিক শর্ত আরোপ করেছে আদালত। জামিনের মেয়াদে তিনি নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি, তদন্তের প্রয়োজনে বারুইপুর থানা তাঁকে তলব করলে তাঁকে হাজির হতে হবে।
লাহেক আলির অন্তর্বর্তী জামিনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেখানে তিনি লাহেকের জামিনের খবর জানিয়ে ‘লাল সেলাম’ লেখেন।
উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মাঝে গণপিটুনির ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে লাহেক আলির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আপাতত মায়ের পাশে থাকার সুযোগ পেলেন সিপিএমের এই নেতা।
