নিউজপোল ব্যুরো: ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এবার সামনে এল আরও বড় খবর। ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলের একাধিক অংশ ব্যবহার না করার নির্দেশ দিল দমকল। বেসমেন্টের পাশাপাশি ভবনের ৬ ও ৭ তলাও অবিলম্বে খালি করে দিতে বলা হয়েছে। বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট না পাওয়া পর্যন্ত এই অংশগুলিতে কোনও ধরনের ব্যবহার করা যাবে না বলেই নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।
দমকলের দাবি, ওই বহুতলের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক ঘাটতি নজরে এসেছে। তার উপর ভবনের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের নবীকরণের সময়সীমাও শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও নতুন করে সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বেসমেন্ট, ৬ এবং ৭ তলাকে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে দমকল।
দমকলের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিক করে বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই তিনটি অংশ ব্যবহার করা যাবে না। শুধু ভবন কর্তৃপক্ষকে নয়, এই সংক্রান্ত নোটিসের কপি কলকাতা পুরসভা এবং শেক্সপিয়র সরণী থানাতেও পাঠানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক স্তরেও নজরে এসেছে।
এর মধ্যেই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিলবোর্ড সরানোর পর অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি নিজের ফেসবুক পেজ এবং এক্স হ্যান্ডলে কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোরের দিকে বিজেপির লোকজন তাঁর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিষেকের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়। তার মধ্যেই এবার দমকলের এই নির্দেশ নতুন মাত্রা যোগ করল ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায়। তবে দমকলের নোটিসে যে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা বলা হয়েছে, সেটিই আপাতত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মূল ভিত্তি। পরবর্তী সময়ে ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত ঘাটতি কীভাবে মেটানো হয় এবং কবে ফের ওই অংশগুলি ব্যবহারের অনুমতি মেলে, এখন সেদিকেই নজর।
