বেআইনি প্রোমোটিং ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি হাতেনাতে ওড়াতে এবার অলকানন্দা দাসের মেগা ডেরায় দুর্নীতি দমন কমিশনের ঝোড়ো হানা

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো:  সরকার বদলের পর থেকেই প্রাক্তন শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় নতুন নাম বেলেঘাটার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অলকানন্দা দাস। শনিবার দুপুরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় হানা দিল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের আধিকারিকরা। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে মিল নেই এমন সম্পত্তি থেকে বেআইনি নির্মাণের অনুমতি—একাধিক অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে কমিশন সূত্রে খবর।

দুপুর ১টা নাগাদ বেলেঘাটায় অলকানন্দা দাসের বাড়িতে পৌঁছন কমিশনের সদস্যরা। সেখানেই শুরু হয় নথিপত্র ও বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখার কাজ। এরপর চাউলপট্টিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতেও যায় তদন্তকারী দল। একই এলাকায় তাঁর আরও একটি ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। একাধিক জায়গায় একসঙ্গে অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

কমিশন সূত্রের দাবি, অলকানন্দা দাস কাউন্সিলর থাকাকালীন আয়ের তুলনায় বেশি সম্পত্তি তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছিল। শুধু সম্পত্তি নয়, বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এই অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কারণ, এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যুক্ত দুটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছিল এই কমিশন। হাকিম পলিমেকার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং হাকিম কেমিক্যালসের অফিসে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই কমিশন তৈরি করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু চেয়ারম্যান এবং IPS আধিকারিক কে জয়রমণ সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে অলকানন্দা দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। তল্লাশি থেকে কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়, এখন সেদিকেই নজর।