“এসব ফালতু জুমলাবাজি করে আমাদের শেষ করা যাবে না!”—শেক্সপিয়র সরণি থানার বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে সোমবার কী করতে চলেছেন হুমায়ুন?

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের জেরে এবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার পারদ। ররিবার সাতসকালেই প্রাক্তন আইপিএস তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের কসবার বাসভবনে হানা দিল শেক্সপিয়র সরণি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কলকাতা পুরসভার অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকদের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি তৎপরতা। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় তাঁকে সরাসরি থানায় হাজির হওয়ার কড়া সমন জারি করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়ে ধামাকা তৈরি করে হুমায়ুন কবীরের কর্মীরা জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত দিনের আগেই অর্থাৎ আগামী সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি নিজে থানায় গিয়ে মুখোমুখি হবেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত শনিবার গভীর রাতেই, যখন পুলিশের একটি দল নোটিস দিতে প্রাক্তন এই উচ্চপদস্থ আমলার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে। মাঝরাতে এভাবে দরজায় পুলিশ হাজির হওয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাকে তিনি ‘পরিকল্পিত হয়রানি’ বলে সরাসরি তোপ দাগেন। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, গণতান্ত্রিক দেশে রাতের অন্ধকারে এভাবে পুলিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কড়া সুর চড়িয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এসব ফালতু ‘জুমলাবাজি’ বা চমক দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে দমানো বা শেষ করা যাবে না।

অভিযোগের তির ছুঁড়ে হুমায়ুন কবীর আরও দাবি করেন, পুরসভার প্রতিনিধিরা সেদিন কেবল নামমাত্র কাজ করছিলেন এবং পুলিশ তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করছিল। তিনি নিজে কোনো আইনি অপরাধ করেননি। ঘটনার রাতের অভিজ্ঞতা টেনে এনে তিনি অভিযোগ জানান, পুলিশই উল্টে তাঁদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের টানা-হ্যাঁচড়া করে ধাক্কা মেরেছে, যার পুরো ভিডিও রেকর্ড তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আইনসম্মত নোটিস দেওয়া হলে তা সবসময় গ্রহণযোগ্য, কিন্তু রাতের অন্ধকারের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট বিকেলে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের সামনে টানানো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা একটি অতিকায় বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা। কলকাতা পুরসভার টিম ও পুলিশ সেই হোর্ডিং সরাতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মোট ৩টি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়, যেখানে হুমায়ুন কবীর ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী নেতাদের স্পষ্ট নাম রয়েছে।