১৪৪ থেকে ২০৯! পুরসভার ওয়ার্ড বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ দুই তৃণমূল শিবিরের

breakingnews আইন কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো:  কলকাতা পুরসভার মানচিত্র বদলাচ্ছে, আর সেই বদল নিয়েই এবার পুরসভায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ-আপত্তি শুনানির প্রথম দিনেই মুখোমুখি হল তৃণমূলের দুই শিবির। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ থেকে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’—দুই পক্ষের অভিযোগের ভাষা আলাদা হলেও মূল প্রশ্ন একটাই, নতুন সীমানা তৈরির পিছনে কি রাজনৈতিক হিসাব কাজ করছে?

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। নতুন পুনর্বিন্যাসে সেই সংখ্যা বেড়ে ২০৯ হতে চলেছে। কোথাও নতুন ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে, কোথাও আবার বদলে যাচ্ছে পুরনো সীমানা। এই পরিবর্তন নিয়েই বুধবার পর্যন্ত কলকাতা পুরসভায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের অভিযোগ ও পরামর্শ শোনা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া অভিযোগ নিয়েই আগামী বুধবার পর্যন্ত শুনানি চলবে।

প্রথম দিনেই পুরসভায় হাজির হন দুই তৃণমূল শিবিরের প্রতিনিধিরা। ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আদৌ ওয়ার্ড ভাগ করা হয়েছে কি না। তাঁর দাবি, কোথাও অনেক বেশি ভোটার রাখা হয়েছে, আবার কোথাও তুলনায় কম ভোটার রয়েছে।

অন্যদিকে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর বিধায়ক জাভেদ খানের অভিযোগ, কোনও কোনও ওয়ার্ডে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটার রাখা হলেও তাঁদের এলাকায় ভোটারের সংখ্যা ১৪-১৫ হাজারের মধ্যে রাখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা এলাকার সীমানাও ইচ্ছেমতো ভাঙা ও জোড়া হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং বিজেপি সুবিধা পেতে পারে বলেও অভিযোগ তাঁর।

কালীঘাট শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষও একই সুরে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, তাড়াহুড়ো করে ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে এবং এর পিছনে বিজেপির চাপ থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের জবাবে বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ, ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’।