বিজেপির রাজনীতির ২৫ বছর পূর্তিতে বঙ্গে মোদীর রাজকীয় সফর উদযাপনে টানা এক মাসের ‘সেবা সংকল্প অভিযান’

breakingnews অন্যান্য প্রযুক্তি রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: প্রশাসনিক ক্ষমতার শীর্ষাসনে টানা ২৫ বছর! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই দীর্ঘ ও অভূতপূর্ব রাজনৈতিক যাত্রা স্মরণীয় করে রাখতে এবার বাংলায় নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মতিথি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত পালিত হবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। সোমবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। মোদীর এই শাসনকালের সাফল্য এবং জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তগুলি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেই বঙ্গ বিজেপিকে ময়দানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে রাজ্যের প্রতিটি বুথে অন্তত ২৫টি করে দীপ জ্বালিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করা হবে। এর পাশাপাশি প্রকাশ করা হবে ‘নমো সেবা গাথা’ তথ্যচিত্র ও থিম সং। তবে কেবল রাজনৈতিক প্রচার নয়, প্রান্তিক মানুষের কাছে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্প পৌঁছে দিতে ‘সেবা সেতু অভিযান’-এর অধীনে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করবে দল। ক্ষোভ প্রকাশ করে শমীকবাবু বলেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতা ও রাজনীতির কারণে আয়ুষ্মান ভারত, পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা কিংবা কিষাণ সম্মান নিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপি কর্মীরা বুথে বুথে আবেদনপত্র পূরণ ও ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যোগ্য মানুষকে সাহায্য করবেন।

তবে কেবল কর্মসূচির ঘোষণাই নয়, সাম্প্রতিককালের বেশ কয়েকটি চরম বিতর্কিত বিষয়ে শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক বক্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জল ঢেলে বিজেপি রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় কে কী খাবেন বা পরবেন তা ঠিক করে দেওয়া বিজেপির কাজ নয়। বাঘেশ্বর বাবার মতো সাধুসন্তরা নিজস্ব পরামর্শ দিতেই পারেন, কিন্তু বাঙালি মাছ-মাংস খাবে নাকি নিরামিষ, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দের বিষয়। একই সঙ্গে ‘গেরুয়া বঙ্গ’ বা শিক্ষার ‘গৈরিকীকরণ’-এর মতো শব্দবন্ধ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। জেন-জি তথা নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদী মানসিকতার পাশে দাঁড়িয়ে শমীকবাবু সাফ জানান, তরুণ প্রজন্মের প্রশ্ন তোলার ও প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে বিজেপি পুরোপুরি সম্মান জানায়।

দলীয় এই মেগা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে তরুণ বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করতে কলকাতা-সহ ৫টি প্রধান শহরে আয়োজন করা হবে বিশেষ ‘সায়েন্স কংগ্রেস’। একই সঙ্গে মোদী সরকারের প্রকল্পে উপকৃত রাজ্যের প্রায় ২৫ লক্ষ পরিবারের সাফল্যের গল্প সংগ্রহ করে তা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করবে বিজেপি।