বাঙালির দুর্গাপূজায় আমিষ খাওয়া কি সত্যিই নিষিদ্ধ হচ্ছে নাকি শুধুই জল্পনা? বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে এবার স্পষ্ট বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

breakingnews অফবিট আইন কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: উৎসবের মরশুমের মুখেই শহর জুড়ে এক অলিখিত তোলপাড়! পাড়ার চায়ের আড্ডা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্রই এক কাল্পনিক আতঙ্কের মেঘ: “এবার দুর্গাপুজোয় কি বন্ধ হতে চলেছে বাঙালির প্রিয় মাছ-মাংসের স্টল? আমিষ খাওয়া কি চিরতরে নিষিদ্ধ?” বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কিংবা রাজ্য সরকারের তরফে কোনও অফিশিয়াল নির্দেশিকা না থাকলেও, সম্প্রতি বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি মন্তব্য আগুনে ব্যাপক ঘি ঢেলেছিল। তবে সমস্ত বিভ্রান্তি ও অমূলক জল্পনার মেঘ কাটিয়ে এবার স্বমহিমায় ময়দানে নামলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পুজোর পাতে কচি পাঁঠার ঝোল নিয়ে তাঁর বিস্ফোরক ও রসাল মন্তব্য ইতিমধ্যেই ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানো চক্রান্তকারীদের!

এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বিন্দুমাত্র রেয়াত না করে সোজা কথা সোজাভাবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শমীক। তাঁর সাফ কথা, “নবমীর দিন বাঙালি সাধারণত পাঁঠার মাংস খায়, আর অষ্টমীর দিন লুচি— যেটা প্রথা, সেটাই চলবে! বাঙালি যা খায়, সেটাই খাবে।” নিজস্ব রসবোধের মেজাজে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার তো স্ত্রী নেই, মা-বাবাও আজ আর বেঁচে নেই, নয়তো বাড়িতেই আপনাকে নিমন্ত্রণ করে কচি পাঁঠার মাংস খাওয়াতাম! তবে নবমীর দিন আপনি যদি আমায় পাঁঠার মাংসের নিমন্ত্রণ জানান, আমি নিশ্চয়ই যাব, আর আমার সঙ্গে বহু বিজেপি কর্মীও হাজির হবে।”

এখানেই শেষ নয়, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ধোঁয়াশাতেও বড়সড় ছক্কা হাঁকিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাধুসন্তদের মন্তব্য রাজনীতি বা বাঙালির নিজস্ব সামাজিক নিয়ম ঠিক করে না। শমীকবাবুর কথায়, “বাগেশ্বর বাবা অন্য পৃথিবীর মানুষ, তাঁর আলাদা একটা জ্যোতি ও বিপুল অনুগামী রয়েছে। আমি নিজেও ওঁর সঙ্গে দেখা করে প্রণাম জানিয়েছি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কে কী খাবেন বা খাবেন না, সেটা ঠিক করে দেওয়ার জায়গায় উনি নেই। একজন সন্ন্যাসী হিসেবে উনি নিজের মতামত বলতেই পারেন, কিন্তু উনি তো আর ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো পদাধিকারী নন!”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবপ্রেমী বাঙালির পাত থেকে আমিষ বাদ দেওয়ার যে জুজু তৈরি করা হচ্ছিল, শমীক ভট্টাচার্যের এই চাঁচাছোলা বক্তব্যে তা এক লপ্তে নস্যাৎ হয়ে গেল। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবে অষ্টমীর নিরামিষ অঞ্জলির সুজি-লুচি থেকে শুরু করে নবমীর কচি পাঁঠার মাংসের ভোজ— বঙ্গজীবনের এই চিরন্তন ঐতিহ্যে যে কোনো ক্ষমতার রাশ টানা যাচ্ছে না, তা বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই সোজা বার্তাতেই জলের মতো পরিষ্কার।