শতাব্দীর প্রথম ঐতিহাসিক ধর্মঘট, প্রেমের শহরে এবার সাম্য ও নারীত্বের অপমানের বিরুদ্ধে বন্ধ হয়ে গেল আইফেল টাওয়ার

breakingnews অপরাধ আইন আন্তর্জাতিক দেশ

নিউজপোল ব্যুরো: ফরাসি বিপ্লব ও সাম্যের পীঠস্থান প্যারিসে এ যেন এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন বিপর্যয়! প্রেমের শহর হিসেবে বিশ্বখ্যাত প্যারিসের মূল আকর্ষণ অর্থাৎ ঐতিহ্যের আইফেল টাওয়ারে আচমকা ঝুলে গেল তালা। নেপথ্যে— এক ভারতীয় সনাতনী সংগঠনের অদ্ভুত ফরমান এবং তার জেরে কর্মক্ষেত্রে তৈরি হওয়া তীব্র লিঙ্গবৈষম্য! একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর পুরুষ প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত সফরকে কেন্দ্র করে আইফেল টাওয়ারের সমস্ত মহিলা কর্মীদের ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠতেই খেপে উঠেছেন ফরাসি কর্মীরা। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অবমূল্যায়ন ও চরম অপমানের প্রতিবাদে সোমবার কাজ বন্ধ করে সটান ধর্মঘটের ডাক দিলেন কর্মচারীরা, যার জেরে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেল বিশ্ববন্দিত এই পর্যটন কেন্দ্র।

গোটা ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার। জানা গিয়েছে, গুজরাটভিত্তিক বিখ্যাত সনাতনী হিন্দু সংগঠন ‘বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ (BAPS)-এর প্রায় ১০০ জন সদস্য আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যান। কিন্তু তাঁদের এই ‘প্রাইভেট ভিজিটে’র অন্যতম অলিখিত শর্ত ছিল— টাওয়ারের পরিদর্শনের সময় কোনো মহিলা কর্মীকে ডিউটিতে রাখা যাবে না! আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার দাবি, এই বৈষম্যমূলক আবদার অনায়াসে মেনে নেয় আইফেল টাওয়ার পরিচালনকারী সংস্থা SETE। তৎক্ষণাৎ সেখানে কর্মরত সমস্ত মহিলা কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্যারিসের শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন CGT এবং আইফেল টাওয়ারের সাধারণ কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে নারীদের এমন অপমানজনকভাবে দৃশ্যপট থেকে ‘অদৃশ্য’ করে দেওয়ার মানসিকতার তীব্র বিরোধিতা করে সোমবার সকালেই টাওয়ারের মূল ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বিশাল নোটিশ— ‘পরিচালনা সংক্রান্ত কারণে আপাতত বন্ধ’। যদিও ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে পরিচালনকারী সংস্থা SETE, তবুও ক্ষোভের আগুন নিভছে না।