নিউজপোল ব্যুরো: বুধবারের তিলোত্তমায় জোড়া মেগা ধামাকা! একদিকে যাদবপুরের বিতর্কিত অলিন্দে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বহু প্রতীক্ষিত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’, অন্যদিকে শহরের জঘন্য পচা খাবার ও বেআইনি হোটেলের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনের অল-আউট পদক্ষেপ। এই উত্তপ্ত আবহেই সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে একযোগে একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্য দিলীপ ঘোষ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বুক থেকে রাষ্ট্রবিরোধী সংস্কৃতি মুছে ফেলার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি শহরের খাদ্য প্রতিষ্ঠান ও হোটেলের কেলেঙ্কারি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সোজা প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানালেন তিনি।
যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রীর এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচির পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে জানান, যে শহর একদা দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছিল, সেই কলকাতার বুকেই যাদবপুর আজ এক কালো দাগ হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু বিভ্রান্ত ও অর্বাচীন ছাত্রছাত্রীকে মগজধোলাই করে বারবার এই ক্যাম্পাস থেকে ‘ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ানো হয়েছে, যারা কেরিয়ার গড়ে পরবর্তীতে সটান সরে পড়েছে। সারা দেশে এখন সফলভাবে রাষ্ট্রবাদী আন্দোলন চলছে। তাই শুভেন্দু অধিকারীর এই যাত্রার মাধ্যমেই যাদবপুর থেকে দেশবিরোধী ধ্বনির বদলে প্রকাণ্ড রাষ্ট্রবাদী স্লোগান উঠবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, শহরে ৪০টি নামী খাবারের দোকানের লাইসেন্স স্থগিত হওয়া এবং ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল বা ঝুলন্ত থাকা নিয়ে নজিরবিহীন তোপ দাগেন দিলীপ। আমজনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সোজাসাপ্টা বার্তা, “আর চুপ করে থাকবেন না, আপনারাও এবার কড়া প্রতিবাদ জানান।” বিগত জমানার নজরদারিহীনতার জন্যই আজ খাদ্যের এই করুণ অবস্থা বলে দাবি করেন তিনি। দুর্গাপুজোর মুখে শহরের এত বিশাল সংখ্যক হোটেল অচল হয়ে থাকলে বহিরাগত পর্যটকেরা কোথায় উঠবেন— সেই প্রশ্ন তুলে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। হোটেল মালিকদের অবিলম্বে পরিকাঠামো ঠিক করে সরকারি নিয়ম মেনে লাইসেন্স রিনিউ করার কড়া পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
