গণেশ পুজোর আনন্দের রাতেই নেমে এল শোকের মিছিল! ফ্রিজে আচমকা বিস্ফোরণ, ঘুমের মধ্যেই আটকে পড়ে জীবনশূন্য হয়ে গেল একই পরিবারের ৪ জনের

breakingnews অফবিট রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: রাত তখন গভীর, চারপাশ নিস্তব্ধ। ঘরের ভিতরে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিল একটি পরিবার। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠল বাড়ি! মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ল এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ঘুমের ঘোরে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে আটকে পড়লেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়াবহ এই ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম আরও দু’জন। ঘটনাটি কর্নাটকের বেলাগাভির চাভাট গল্লি এলাকার।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়ির ভিতরে থাকা একটি ফ্রিজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে বাড়ির বাসিন্দাদের বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ মেলেনি। রাতের অন্ধকারে আচমকা আগুনের তাণ্ডবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছরের গজানন ধামোনে, ২১ বছরের রোশন ধামোনে, ৪৫ বছরের শারদা ধামোনে এবং ৫০ বছরের ভারতী ধামোনে। গুরুতর আহত প্রিয়া ধামোনে ও গঙ্গা ধামোনেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা নজর রাখছেন। তবে মৃত ও আহতদের নাম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশের তরফে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির ভিতর থেকে দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আগুনের তীব্রতায় বাড়িটির একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজও শুরু হয়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, দুর্ঘটনার সময় পরিবারটি গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বাড়িতে গণেশ মূর্তি রেখেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। উৎসবের আবহে রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই বাড়িতে নেমে এল মৃত্যুর ছায়া।

তবে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে ফ্রিজে এমন বিস্ফোরণ ঘটল? যান্ত্রিক ত্রুটি, শর্ট সার্কিট, অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, নাকি অন্য কোনও কারণ—এখনও স্পষ্ট নয়। প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ফরেন্সিক পরীক্ষা থেকে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। বেলাগাভির মার্কেট থানার আওতাধীন এই ঘটনায় এখন তদন্তকারীদের নজর ফ্রিজের বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণের দিকে।