নিউজপোল ব্যুরো: নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দানে নামতেই আবেগ আর রাজনীতির একেবারে নতুন সমীকরণ! প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবারই তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা। প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, এবার সেই জল্পনায় পড়ল চূড়ান্ত সিলমোহর। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই শুরু হবে প্রচারও।
হাসিরানি রথের প্রার্থী হওয়ার পিছনে রয়েছে একটি আবেগঘন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক। তাঁর মায়ের হাতে এবার নন্দীগ্রামের ভোটযুদ্ধের দায়িত্ব তুলে দিল বিজেপি। ফলে এই কেন্দ্রের লড়াই শুধু রাজনৈতিক অঙ্কে আটকে থাকছে না, তার সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত আবেগ এবং পরিচিতির প্রশ্নও।
অন্যদিকে নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের বিরুদ্ধে কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। ফলে উপনির্বাচনের ময়দানে দুই শিবিরের মুখোমুখি লড়াই ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে ফের ভোটের প্রয়োজন হয়েছে।
রেজিনগরেও প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দিয়েছে বিজেপি। দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ-বহরমপুর এলাকার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ শাখারভ। দলের একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে তাঁকে বক্তব্য রাখতেও দেখা গিয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর তাঁর বার্তা, আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন।
এদিকে রেজিনগরে লড়াই আরও জমজমাট। হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া এই আসনে তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফিকে। সিপিএমও এবার প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে কালীঘাট-তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।
