নিউজপোল ব্যুরো: পরপর দু’দিনে তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে এবার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শনিবার উত্তরপাড়ার ঘটনার পর রবিবার বেলেঘাটা-ফুলবাগান এলাকায় ফের তাঁর গাড়ি ঘিরে হামলার অভিযোগ ওঠে। কুণালের দাবি, হামলার ধরন দেখে তাঁর প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর তিনি নারকেলডাঙা থানায় যান এবং নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের কাছে উদ্বেগ জানান।
কুণাল ঘোষের দাবি, গতকাল, পরশু এবং আজ—পরপর তিন দিন তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বেলেঘাটার ঘটনায় কয়েকজন বাইক আরোহী তাঁর গাড়ির পিছু নেয়। এরপর গাড়ির পথ আটকে সেটি ঘিরে ফেলা হয়। গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর নিরাপত্তারক্ষী পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্ত্র বের করতে বাধ্য হন বলেও দাবি বিধায়কের। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এরপরই সাংবাদিকদের সামনে নিজের আশঙ্কার কথা বলতে গিয়ে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি যে কোনও সময় খুন হয়ে যেতে পারি’’। একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী কি আমার ডেডবডি দেখতে চান?’’ তাঁর দাবি, বারবার হামলার মাধ্যমে তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই বক্তব্য কুণাল ঘোষেরই অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া; এর সত্যতা বা হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্তের বিষয়।
কুণাল আরও অভিযোগ করেন, কলকাতার বুকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা গাড়ির কাছে এসে তাঁকে টানাটানি করছিল এবং গাড়িতে ঝুলেও পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি চিন্তিত। গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই উত্তরপাড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়ি আটকে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যাওয়ার সময় গাড়িতে পাথর, ইট ও ডিম ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কুণাল। গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সেই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব পাল্টা দাবি করেছে, সেটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ এখনও হামলার জন্য কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করেনি।
