নিউজপোল ব্যুরো: ভোট পরবর্তী মেদিনীপুরের উত্তপ্ত রাজনীতির মেজেতে ফের একবার বড় সড় তোলপাড়! ২০০৭ সালের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পুরনো বকেয়া মামলায় এবার সরাসরি তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ইলেকশন এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের বাড়িতে পৌঁছে গেল নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। একই সাথে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন তৃণমূল সদস্য শেখ সাহাউদ্দিনের বাড়িতেও হানা দিয়েছে পুলিশ। আচমকা মধ্যরাতে দুই শীর্ষস্থানীয় নেতার বাড়ি ঘিরে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো নন্দীগ্রাম জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন ও চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের তৎকালীন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় শেখ সুফিয়ান ও শেখ সাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি অস্ত্র জমা করা সহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এতদিন ধামাচাপা পড়ে থাকা সেই সব পুরনো গুরুতর মামলার ফাইলগুলো নতুন করে খুলে তদন্তের কাজ জোরকদমে শুরু করেছে পুলিশ। সেই তদন্ত প্রক্রিয়ার সূত্র ধরেই এ দিন রাতে আধিকারিকরা সরাসরি পৌঁছে যান তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সুফিয়ানের বাসভবনে।
নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক সমীকরণে এই হঠাৎ পুলিশি তৎপরতা নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা পুরনো মামলার রক্ষাকবচ পেতে আদালতের কড়া নাড়ছেন, ঠিক তখনই রাজ্যের প্রাক্তন প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনের নতুন চাবুক নেমে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। দীর্ঘদিন পর এই পুরনো মামলাগুলির নতুন করে সক্রিয় হওয়া এবং সরাসরি হেভিওয়েট নেতাদের বাড়ি পর্যন্ত পুলিশ পৌঁছানোয় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অন্দরে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
হঠাৎ এই পুলিশি অভিযানের পেছনে কী কেবলই আদালতের পুরনো মামলার আইনি বাধ্যবাধকতা নাকি কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে নানা চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো নন্দীগ্রাম এলাকা জুড়েই কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।
