নিউজপোল ব্যুরো: ভোটের পর দলের ভাঙন আর একের পর এক নেতা-সাংসদের দলবদলের মাঝে এবার দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের সরাসরি সময়সীমা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে দলীয় সভায় ফোনে বার্তা দিতে গিয়ে তিনি জানান, যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে বা শিবিরে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ ফিরতে চাইলে ১৫ দিনের মধ্যে ফিরতে হবে। তার পরে তাঁদের জন্য দলে জায়গা থাকবে না বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মমতার এই বার্তা আসে বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের সাংগঠনিক অবস্থার বদলের মধ্যে। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের তৃণমূলের হয়ে ভোটে জেতানো হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এখন দল ছেড়ে গিয়েছেন। তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। একই সঙ্গে কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
এই সভায় মমতার বক্তব্য কর্মীদের সামনে তুলে ধরেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের ফেরানোর জন্য এবার নতুন করে দরজা খুলতে চাইছে মমতা শিবির? যদিও সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বার্তায় স্পষ্ট, ফেরার সুযোগ থাকলেও সেটি সীমাহীন নয়। সেপ্টেম্বরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে দলত্যাগ সংক্রান্ত নোটিস দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। তৃণমূলের মমতা-শিবির তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগের অভিযোগ তুলেছে। পাল্টা বিক্ষুব্ধ শিবির অবশ্য এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
ইসলামপুরের সভায় মমতার বার্তার মধ্যেই নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে দলের ভাঙনের ছবি। দলীয় প্রতীক ও সংগঠন নিয়েও দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। নির্বাচন কমিশনের কাছেও দুই পক্ষের দাবি নিয়ে শুনানি হয়েছে। ফলে ১৫ দিনের এই বার্তা শুধু দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে নয়, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
