নিউজপোল ব্যুরো: রণক্ষেত্র দেশের রাজধানী দিল্লি! সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনীতি। ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত সংসদ অভিযান রুখতে কার্যত কঠোর পদক্ষেপ করল পুলিশ ও কেন্দ্র সরকার। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা থেকে শুরু করে সংসদ ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হলেও যুবকদের এই প্রতিবাদকে রোখা সম্ভব হয়নি। আর সরকারের এই কঠোর দমনের বিরুদ্ধেই এবার হাসপাতালের বিছানা থেকে ফুঁসে উঠলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
যন্তর মন্তরে টানা অনশনের পর বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সোনম। সকালে শর্তসাপেক্ষে অনশন তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, দিনভর দিল্লিতে যুব আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্মম দমনপীড়ন দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। অনশনের ২৩তম দিনে হাসপাতাল থেকে একটি বিস্ফোরক চিঠি প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লড়াই এখনই থামছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসা ওই চিঠিতে সোনম অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লিখেছেন, দেশের যুবসমাজের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে যেভাবে কড়া হাতে, নির্মমভাবে দমন করা হলো, তার প্রতিবাদেই তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। তাঁর বার্তা, যতক্ষণ না পর্যন্ত গ্রেফতার বা আটকে রাখা যুবনেতারা সংসদ ভবনে গিয়ে সাংসদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন, অথবা সাংসদরা নিজে হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন, ততক্ষণ জলস্পর্শ করবেন না তিনি। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিও তুলেছেন এই সমাজকর্মী।
তবে সরকারের এই দমননীতির মাঝেও আন্দোলনে সামিল তরুণদের ধৈর্য ও অদম্য জেদের প্রশংসা করেছেন ওয়াংচুক। শত বাধা ও পুলিশি অত্যাচারের পরেও আন্দোলনকারীরা যেভাবে নিজেদের দাবিতে অটল থেকেছে, তাকে কুর্নিশ জানিয়ে আগামীদিনেও এই শান্তিপূর্ণ লড়াই বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
