চোরবাগানে উৎসবের আলো নিভে ১৯ প্রাণের কান্না, ‘রাজনীতি হবে, কিন্তু এখন সঠিক সময় নয়’— সজল ঘোষের বার্তা

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল গভীর শোকে। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ বাংলা। কীভাবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার পর চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দেখা যায়নি। ভিড় নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় তৎপরতার অভাব ছিল বলে দাবি তাঁদের। ঠাকুর দেখতে আসা এক দর্শনার্থীর কথায়, আগের বছরগুলিতে যে ভাবে পুলিশ ও ভলান্টিয়ারদের সক্রিয় দেখা যেত, এ বার তেমনটা চোখে পড়েনি। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের তরফে অভিযোগ উঠেছে, চাপ দিয়ে কমিটির পুরনো সদস্যদের সরিয়ে নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজনীতি করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি বা অব্যবস্থা থাকলে তা খতিয়ে দেখা দরকার, কিন্তু এই মুহূর্তে শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোই জরুরি। কমিটি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটা ঘটে থাকলে তার বিস্তারিত তিনি জানেন না।

এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক, একাধিক পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে হারানোর শোক। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে সনাতন প্রামাণিক তাঁর স্ত্রী পিয়ালি প্রামাণিক, দিদি টগরি বেজ ও ভাগ্নে সন্দীপ বেজকে হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্য এক পরিবারেও মাকে চোখের সামনে হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে আসা এক মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রীর মৃত্যুতেও ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, দায় থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এখন সেদিকেই নজর সবার।