Panchayat 4 : ‘ফুলেরার গল্পে এবার ছায়া রাজনীতির ‘পঞ্চায়েত ৪’ কতটা ছুঁতে পারল মন?

পেজ 3 বিনোদন

নিউজ পোল ব্যুরো: সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে গেছে পঞ্চায়েতের সিজন ৪ (Panchayat 4)। যার জন্য ‘পঞ্চায়েত’-এর অনুরাগিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিল। তাদেরই অপেক্ষার অবসান ঘটলো ২৪-এ জুন। আসল আর নকলের মধ্যে পার্থক্য করা হলে অরিজিনালকেই আসল বলা হয়। ঠিক তেমনি ক্লাসিক সিনেমার রিমেক (Remake) হয়না কোনোদিনই, সিকুয়েলও অরিজিনালকে টপকাতে পারে না। পঞ্চায়েত সিজন ৪ ঠিক সেরকমই একটা উদাহরণ। সিজন ৪ এর কেন্দ্রেই রয়েছে পঞ্চায়েত ইলেকশন (Election)। একদিকে মঞ্জুদেবী আর অন্য দিকে ক্রান্তি দেবী আসল লড়াই হলো তাদের বিবাহিত পুরুষ সঙ্গী প্রধান জী এবং ভুষানের মধ্যে। সেই ইলেক্শনকে ঘিরেই নানান কান্ড।

আরও পড়ুন:Cyber Security Course: সাইবার সুরক্ষা শিখুন অনলাইনেই! ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে ‘এনআইইএলআইটি’

এই সিজন যতই এগিয়েছে প্রধানজীর চরিত্র কোথাও বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে দর্শকদের কাছে। প্রথমে যদিও মনে হয়েছিল মঞ্জু দেবী তার অস্তিত্ব খুঁজে নেবেন সেটা আর হলো কই ? আবার শহরের ছেলের সাথে গ্রামের মেয়ের প্রেমটা হতে পারতো ঠিক কিছুটা ‘পথে হলো দেরি’র মতন কিন্তু সেটাও তো পথেই রয়ে গেল। সেই প্লটটা কেও খাপছাড়া ভাবে ব্যবহার করা হলো তাতে মাধুর্য আর গুরুত্ব দুইই হারিয়েছে। বিকাশের চরিত্রের নির্যাসও যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। সিরিজের হিরো সচিবজী তাকে এই ইলেক্শনের ডামাডোলের বাজারে একটু অন্যরকমই লেগেছে। কিন্তু যে অমলিন ‘হৃদয়’ ছিল ‘পঞ্চায়েত’ এর প্রধান তার বদলে ঘর করছে হিংসা বিরক্তি সন্দেহ। নতুন সিরিজে যেন ফুলেরার চারিত্রিক মিউটেশন ঘটেছে। গোটা ভারতের প্রেক্ষিতে একটা বড় ক্যানভাস জুড়ে ছিল “পঞ্চায়েত সিজন ৪” (Panchayat 4)।

আর একটা দৃশ্যও মনে থাকবে। মঞ্জু দেবীর দল হেরে যাওয়ার পর, ভূষণের বিজয় মিছিল বেরিয়েছিল। সেখান থেকে বেরিয়েই বিনোদ পরাজিত দলের কাছে নাচতে নাচতে আসলো। সেই এগিয়ে আসার মধ্যে ছিল খেলোয়াড়ি মনোভাব। অন্যদল হেরে গেছে তো কি হয়েছে নিজের আনন্দ তাদের সাথে ভাগ করে নিতে হবে। মঞ্জু দেবী ছাড়া ওই মিষ্টি আর কেউ স্পর্শ করেনি সে অন্য কথা। বিনোদের আনন্দে কোনও ভেজাল ছিল না। সে কেবল জানে সে যার পাশে থেকেছে সেই লোকটা জিতেছে। বিনোদ নিজের বন্ধুত্বের ধর্ম পালন করতে পেরেই খুশি। এইটুকুই তার পাওয়া। আর “পঞ্চায়েত সিজন ৪” (Panchayat 4) থেকে এইটুকুই পাওনা সবারই।

তবে এই সিরিজে বিনোদ অর্থাৎ অশোক পাঠক একমাত্র চরিত্র যে সেই পুরনো ফুলেরাকে (Fulera) বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রধানজী এবং তার দলবল বিনোদকে নেমন্তন্ন করে, যদি সে দল বদলায় এবং প্রতিপক্ষের দূর্বলতা প্রকাশ করে দেয়। ভরপেট লুচি, সিমুইয়ের পায়েস খাওয়ার পর বিনোদ বুঝতে পারে তাকে ভালবেসে নয় স্বার্থ আছে বলেই এই আপ্যায়ন। ভালো করে দুইবেলা খেতে পায় না তাই তো সে রাজি হলো নেমন্তন্ন রক্ষা করতে। বুঝতে পেরে ভারী মনখারাপ হল তার। এই মনখারাপ খুবই চেনা। ঠকে যাওয়া মানুষ এটা বুঝতে পারলে কষ্ট হয়, বিনোদেরও তাই হয়েছিল। তাই কোনো মতে সে বলে, ‘ম্যায় গরিব হো সকতা হু পর গদ্দার নেহি!’

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT