Animal cruelty in Newtown: ৪ পথ সারমেয়র বিষমৃত্যুতে স্তব্ধ নিউটাউন,স্মরণসভায় শিল্পীদের কান্না আর প্রতিবাদ—নৃশংসতার বিরুদ্ধে এবার কি জেগে উঠবে মানবতা?

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:কলকাতার নিউটাউনের অভিজাত আবাসন ‘টাটা ইডেন কোর্ট’-এর সামনেই ঘটেছিল এমন এক ঘটনা, যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পশুপ্রেমী মহল ও সচেতন নাগরিকদের হৃদয়। অভিযোগ, ১৯ জুন রাতে খাবারে বিষ মিশিয়ে ১২ থেকে ১৩ টি পথ সারমেয়কে (Street Dog) পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা (Animal cruelty in Newtown) করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণপণ চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি চারজনকে—ছুটকি, সাহেব, নন্টে ও বাবলি। বাকি সারমেয়রা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এই সারমেয়গুলোর কোনও ঠিকানা ছিল না, কিন্তু আবাসনের পশুপ্রেমী বাসিন্দাদের কাছে ওরা ছিল ঘরের সদস্যের মতোই। রোজ খাওয়ানো, চিকিৎসা, আদর—সবটাই চলত মমতায়। কিন্তু সেই স্নেহের জবাবে তারা পেয়েছিল এক নির্মম পরিকল্পনার শিকার হওয়া।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/06/bjp-red-road-event-shyama-prasad-birth-anniversary/

ঘটনার পরে টেকনো সিটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার বা চিহ্নিত হয়নি। সময় গড়িয়েছে, কিন্তু বিচার আসেনি—এটাই ক্ষোভের জায়গা। আবাসনেরই একাংশের বিরুদ্ধে ওঠে সন্দেহের আঙুল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই সারমেয়দের খাওয়ানো নিয়ে আপত্তি জানাতেন, হুমকি দিতেন। সেই বিরোধ থেকেই এই চক্রান্ত বলে মনে করছেন অনেকে (Animal cruelty in Newtown)।এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার আবাসনের সামনেই আয়োজিত হয় এক আবেগঘন স্মরণসভা। উপস্থিত ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র, অভিনেতা তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাণীপ্রেমী সংগঠনের প্রতিনিধি রাজীব ঘোষ, এবং আবাসনের সেইসব বাসিন্দা, যাঁরা প্রতিদিন কুকুরগুলোর দেখভাল করতেন।

দেবলীনা দত্ত বলেন, “এই রাজ্যে বিচার হয় না, জানি। তবুও আমরা থামবো না। যতটা পারি, দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব। কর্মফল থেকে কেউই রেহাই পায় না।”

শ্রীলেখা মিত্রের গলায় ক্ষোভ, “যারা এমনটা করেছে, তারা মানুষ নয়। বিদেশি কুকুর পুষে, অথচ রাস্তায় থাকা সারমেয়দের বিষ খাইয়ে মারে—এই হিংস্রতা মেনে নেওয়া যায় না। ঈশ্বরই বিচার করবেন।”

তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা আজ কুকুর মারার চেষ্টা করছে, তারা ভবিষ্যতে সমাজের জন্য বড় বিপদ। তাই এই মুহূর্তেই আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে, না হলে কাল দেরি হয়ে যাবে।”

প্রাণীপ্রেমী রাজীব ঘোষ বলেন, “মশার কামড়ে ডেঙ্গু হলে কেউ মশাকে দোষ দেয় না, অথচ কুকুর দেখলেই রাগ। এটা একটা সামাজিক ব্যাধি। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত—রাস্তার কুকুরও এই শহরের নাগরিক, তার জীবনও সুরক্ষিত।” আবাসিক পাপড়ি রায় বলেন, এই সারমেয়গুলো তাঁদের পরিবারেরই সদস্য ছিল। যারা এতটা নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে এদের বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিল, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, সারাজীবনে চোখে জল আসেনি, কিন্তু ওই কুকুরগুলোর যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু দেখে মন কেঁদে উঠেছে। জানেন না, বিচার মিলবে কি না, তবে লড়াই ছাড়বেন না।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

এই ঘটনার জেরে শুধু পশুপ্রেমীরা নয়, সমাজের বৃহৎ অংশ আজ প্রশ্ন তুলছে—পথ সারমেয়দের (Street Dog) প্রতি এত ঘৃণা কোথা থেকে আসে? প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এবং মানুষের অসচেতনতা একসঙ্গে মিলে তৈরি করছে এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা। যা শুধুমাত্র পশু নয়, মানবিকতাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।