নিউজ পোল ব্যুরো:বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজে (Fakir Mohan College student fire) ঘটে গেল ভয়াবহ এক ঘটনা। গায়ে পেট্রোল ঢেলে কলেজ ক্যাম্পাসেই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন বিএড-এর দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। ভয়ানক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে ভুবনেশ্বর এইমসে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ—যেখানে দেখা যাচ্ছে, গায়ে আগুন লাগিয়ে দৌঁড়চ্ছেন ছাত্রী।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/13/president-nominates-ujjwal-nikam-shringla-rajya-sabha-2025/
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কলেজের বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহু। দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীকে হেনস্থা করতেন তিনি—এমনটাই দাবি। ঘটনায় তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার ঘোষকেও।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই বিজেপি শাসিত প্রশাসনের বিরুদ্ধেই এবার সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ বলা হয়েছে,-“আলাদা দিন, আলাদা ঘটনা—কিন্তু বিজেপির চোখে পড়ে না! ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা অসম্মানজনক। প্রধানমন্ত্রীও এই ঘটনার নিন্দা করেননি। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানটা এখন শুধুই প্রহসন!”
তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেন,-“ওড়িশায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকে ১৭ দিনের মধ্যে ৭টি ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ উঠেছে। এটা সেই ওড়িশা নয়, যাকে আমরা চিনি। বিজেপি সরকার যেখানেই এসেছে, সেখানে রাজ্যগুলোকে উত্তরপ্রদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। আজ অভিভাবকের জায়গায় থাকা একজন অধ্যাপক যদি এই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে ছাত্রীরা নিরাপত্তা পাবে কোথায়?”
তাঁর আরও মন্তব্য,-“জাতীয় মহিলা কমিশন এই ঘটনায় যাবে কি না, সেটাই এখন দেখার। আমাদের দাবি, ওড়িশার শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একজন ছাত্রীর জীবন নিয়ে এই ধরনের খেলা বরদাস্ত করা যায় না।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই ঘটনাকে (Fakir Mohan College student fire) ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, চাপে বিজেপি নেতৃত্বও। শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা, যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা ও দায়ীদের দ্রুত শাস্তির দাবি তুলেছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা।
