নিউজ পোল ব্যুরো:সাঁইথিয়ার পর ফের রক্তাক্ত বীরভূম (Political Violence Bengal)। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ফের তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল জেলার মল্লারপুরে। চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে বোমার আঘাতে প্রাণ হারালেন তৃণমূল নেতা ও ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ বায়তুল্লা শেখ। অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে নিশানা করে বোমা ছোড়া হয়। পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে থেকেই তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র চলছিল। একবার কোনওভাবে সে ষড়যন্ত্রের খবর পেয়ে বেঁচে গেলেও এবার আর শেষরক্ষা হল না।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/20/suvendu-adhikari-delhi-visit-ahead-of-nabanna-abhijan/
শনিবার রাতে তিন তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে মল্লারপুরের বিশিয়া গ্রাম থেকে ফিরছিলেন বায়তুল্লা। সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। চারজনই গুরুতর আহত হন। রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা বায়তুল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিরা এখনও চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার জেরে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরেই দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। কারণ গত দশ দিনের মধ্যে রাজ্যের তিন জেলায় পরপর খুন হয়েছেন তৃণমূলের চার জন নেতা-কর্মী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে খুন হন রাজ্জাক খান। সেই ঘটনার অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন তৃণমূল কর্মীও রয়েছেন। মালদার ইংরেজবাজারে জন্মদিনের পার্টিতে কুপিয়ে খুন করা হয় তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদকে। তারপর বীরভূমের সাঁইথিয়ার শ্রীনিধিপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি পীযূস ঘোষের। এবার সেই তালিকায় যোগ হল বায়তুল্লা শেখের নাম।
বিরোধীদের দাবি, এই খুনগুলোর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলেরই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব (Political Violence Bengal)। বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা কটাক্ষ করে বলেন, “এ তো সবে সকাল, এখনও সারা দিন বাকি। তৃণমূল মারছে, মরছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষের মতে, তৃণমূলের ‘বখরার লড়াই’-এর ফল এই খুনখারাপি। তাঁর কথায়, উপরমহলে বোঝাপড়া থাকলেও নিচুতলায় সেই নিয়ন্ত্রণ কার্যত নেই। ফলে সংঘর্ষ এড়ানো যাচ্ছে না।
তবে বিরোধীদের এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল। দলীয় বিধায়ক অভিজিৎ রায় পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, সিপিএমের দুষ্কৃতীরাই বায়তুল্লার উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত হয়ে এখন সহিংসতার পথ নিচ্ছে বিরোধীরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যে ফের উত্তপ্ত রাজনীতি। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক হিংসার আশঙ্কা আরও প্রকট হচ্ছে। পরপর এই খুনের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
