নিউজ পোল ব্যুরো: হঠাৎ করেই উপরাষ্ট্রপতির (Vice President) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar )। ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা বিরল। ভিভি গিরি এবং আর ভেঙ্কটরামনের পর ধনখড় হলেন ভারতের তৃতীয় উপরাষ্ট্রপতি যিনি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার ইস্তফা দিয়েছেন জগদীপ ধনখড়। তার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। হঠাৎ কেন ইস্তফা দিলেন এই প্রশ্নই শোনা জাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে। সরকারের চাপে পড়ে বাধ্য হয়েই কি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? একাধিক প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগের পর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক উপদেষ্টা কমিটির (BAC) বৈঠকে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কংগ্রেস দাবি করেছে যে পদত্যাগের কয়েক ঘন্টা আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংসদ নেতা নাড্ডা এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর অনুপস্থিতিতে ধনখড় বিরক্ত হয়েছেন। যদিও জেপি নাড্ডা বলেছেন তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং চেয়ারম্যানকে এই বিষয়ে যথাযথভাবে সমস্ত কিছু জানিয়েছেন। উপরাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ মহল বলছে বেশ কিছুদিন ধরেই নাকি মনমরা ছিলেন জগদীপ ধনখড়। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধীরা সদ্য প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির কাজে কেন্দ্রের বিরোধীতার আঁচ পেয়েছিলেন কারণ অশিবেশন শুরুতেই বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা নিয়ে সর্বদল বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার বিরোধীতা করেন। এখনেই শেষ নয় তার পরেই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে পহেলগাঁও হামলায় নিরাপত্তার গাফিলতি ও ভারত-পাক যুদ্ধবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে অনুমতি দেন। এই দুই বিষয়ই কেন্দ্রের কাছে ‘অস্বস্তি’র ইস্যু। তাই অনেকেই বলছেন মোদী সরকারের কাজ মানতে না পেরেই হয়ত পদক্ষেপ নিয়েছেন ধনখড়।
আরও পড়ুন : Dilip Ghosh: ‘ভালো ছেলে, কিন্তু নিষ্কর্মা!’—দেবকে ঘিরে দিলীপের রাজনৈতিক বাউন্সার
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে জগদীপ ধনখড়ের (Jagdeep Dhankhar ) হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে চমকে গিয়েছেন সকলেই। ইস্তফা দেওয়ার আগে তিনি রাজ্যসভার কার্যনির্বাহী কাজে সভাপতিত্ব এবং বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে নেওয়া প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন। ব্যবসায়িক উপদেষ্টা কমিটি ছাড়াও, তিনি বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও দেখা করেন, তবে কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা পদত্যাগের পরিকল্পনার কোনও ইঙ্গিত দেননি। এতেই সকলে অবাক হয়েছেন। ৭৪ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ ধনখড় ২০২২ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ঘটনাবহুল মেয়াদকালে, বিরোধী দলের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার সংঘর্ষ হয়, এমনকি বিরোধীরা তাঁকে অপসারণের জন্য একটি প্রস্তাবও উত্থাপন করে, যা স্বাধীন ভারতে একজন বর্তমান উপরাষ্ট্রপতির জন্য প্রথম। তবে, পরে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
