নিউজ পোল ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ বছরের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের পরে অবশেষে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) ‘বোধোদয়’। জাতিগত জনগণনা নিয়ে অতীতের ‘ভুল’ স্বীকার করলেন স্বয়ং লোকসভার বিরোধী দলনেতা। শুক্রবার দিল্লির (Delhi) তালকাটোরা স্টেডিয়ামে কংগ্রেসের ‘ভাগীদারি ন্যায় সম্মেলন’-এ ওবিসি (অনগ্রসর শ্রেণি) ভোটারদের সামনে অকপটে মনের কথা জানালেন রাহুল (Rahul Gandhi)। বললেন, “২০০৪ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে আছি। তখন ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু জাতিগণনা করানো হয়নি। এটা কংগ্রেসের নয়, আমার ব্যক্তিগত ভুল। অনেক পরে বুঝেছি কত বড় ভুল করেছিলাম।”
রাহুলের (Rahul Gandhi) এই বক্তব্য নিছক আত্মপলব্ধি নয় বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। উত্তর ভারতে যেখানে ওবিসি ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ এখনও বিজেপির দখলে, সেখানে কংগ্রেস চাইছে নিজের পুরনো অবস্থান ফেরত পেতে। জাতিগত জনগণনার দাবি তুলে রাহুল সেই তাসই খেলতে চাইছেন, যা মোদী সরকারের (Modi Government) কাছে কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
রাহুল আরও বলেন, “যখন নিজের রাজনৈতিক জীবনকে পেছনে ফিরে দেখি, তখন বুঝতে পারি, সবচেয়ে বড় যে ভুল করেছি তা হলো, ওবিসিদের দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনার গভীরতা আমি অনেক দেরিতে বুঝেছি। ওদের জন্য যথেষ্ট কাজ করা হয়নি, আর সেই দায় আমার।” তার এই স্বীকারোক্তিকে কংগ্রেস শিবিরে ‘রাজনৈতিক পরিণতিবোধ’-এর নিদর্শন বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই মুহূর্তে জাতিগত জনগণনাকে হাতিয়ার করে ভোট ময়দানে নেমেছে, সেখানে কংগ্রেস (Congress) স্পষ্টভাবে বলছে— ‘জনগণনা চাই, ন্যায্য ভাগ চাই’। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য সেই দাবিকেই আরও জোরালো করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই ঘুরে দাঁড়ানো আসন্ন লোকসভা ভোটে কংগ্রেসকে ওবিসি ভোটে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে, এই বোধোদয়ের পিছনে রাজনৈতিক লাভ কতটা, আর আন্তরিকতা কতটা— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
