নিউজ পোল ব্যুরো: “কোনও হিন্দু কখনও সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না”, রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করে বিতর্কের কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সময় যেন কাকতালীয় নয়, পরিকল্পিত কারণ এই মন্তব্যের ঠিক পরদিনই ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় (Malegaon Blast Case) প্রজ্ঞা ঠাকুর-সহ সাতজন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে বিশেষ এনআইএ আদালত। আর তারপর থেকেই বিজেপি বনাম কংগ্রেসের (Congress-BJP) রাজনৈতিক লড়াই যেন ফের একবার ‘ধর্ম’ আর ‘সন্ত্রাস’ শব্দ দু’টির সংজ্ঞা বদলে দিতে চলেছে।
আরও পড়ুন: Rahul Gandhi: মৃত অর্থনীতির দায়ে মোদীর দিকে আঙুল, ট্রাম্পের সুরে সুর মেলালেন রাহুল
বিচারকের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট,“সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই।” কিন্তু রাজনৈতিক তরজায় এই নিরপেক্ষতা যেন হার মানে। রবি শঙ্কর প্রসাদ তোপ দেগে বলেন, “এই রায় প্রমাণ করে কংগ্রেসের হিন্দু সন্ত্রাসের (Congress-BJP) থিওরি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।” একযুগ আগের সেই বিস্ফোরণ কাণ্ডে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। আজমের শরিফ, মক্কা মসজিদ থেকে শুরু করে সমঝোতা এক্সপ্রেস একাধিক ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল তথাকথিত ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’দের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসের তৎকালীন নেতৃত্ব পি চিদাম্বরম থেকে দিগ্বিজয় সিং প্রচার করেছিলেন ‘সাফরন টেররিজম’ শব্দবন্ধ। এখন সেই নেতারাই বলছেন, “সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম নেই।”
অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্য, “হিন্দু ধর্মের আদর্শেই স্পষ্ট, সে সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। যারা ধর্মের নাম টেনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়, তারাই সত্যিকারের সমাজবিরোধী।” প্রজ্ঞা ঠাকুরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিজেপি আরও একবার ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের’ আক্রমণে এগিয়ে এসেছে। তবে এই রায় ঘিরে যে দেশজুড়ে বিতর্ক ফের জোরালো হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এনআইএ আদালতের এই রায় রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক, যেখানে প্রশ্ন উঠছে—সন্ত্রাস কী আদর্শহীন? নাকি রাজনৈতিক (Congress-BJP) চেহারা পরিয়ে দেওয়া এক সুবিধাবাদী হাতিয়ার?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
