Saif Ali Khan: ১৫০০ কোটির সম্পত্তি হাতছাড়া! নবাবের বংশধর হয়েও কেন কিছুই পেলেন না সৈয়ফ?

পেজ 3

নিউজ পোল ব্যুরো: সৈয়ফ আলি খান (Saif Ali Khan) এর দেড় হাজার কোটি টাকার মূল্যের সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে। বলা হয়েছে এটি এনিমি প্রপার্টি বা শত্রু সম্পত্তি। হঠাৎ সৈয়ফ আলি খানের (Saif Ali Khan) সম্পত্তি কেন শত্রু সম্পত্তি এবং কেনই বা তাঁর সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করে নিল, তাও আবার শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায়। এ কথা বুঝতে হলে শত্রু সম্পত্তি কি জেনে নেয়াটা দরকার। বিষয়টি একটু গোলমেলে এবং জটিল। ফলে অনেকেরই অজানা। আর ১৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি মোটেই হেলাফেলার নয়। তাই বিষয়টি একটু বিশদে ব্যাখ্যা করা যেতেই পারে।

আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: কোটি কোটি টাকার খরচে তৈরি নথি এখন অস্বীকার?’ মমতার কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ

সকলেই জানে ১৯৬৫ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের কথা। এই যুদ্ধের পর ভারত সরকার কর্তৃক ১৯৬৮ সালে এনিমি প্রপার্টি অ্যাক্ট পাস করা হয়। এই অ্যাক্ট বা আইন অনুসারে ১৯৬৫ সালের পরে যে ব্যক্তি ভারত ছেড়ে চিন কিংবা পাকিস্তানে চলে যাবে তার ভারতে ছেড়ে যাওয়া যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ভারত সরকারের হাতে চলে যাবে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি চিন কিংবা পাকিস্তানে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে চলে যাবে তাঁর ভারতে থাকা সমস্ত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ভারত সরকার বাজেয়াপ্ত করে নেবে ১৯৬৮ সালের আইন অনুসারে। আর এই আইনের বলেই সম্প্রতি হারাতে হল সৈয়ফ আলি খানকে এক বিপুল পরিমাণ টাকার সম্পত্তি। যদিও আদালত থেকে ৩০ দিনের নোটিশ জারি করা হয়েছিল সৈয়ফ আলি খানকে (Saif Ali Khan) সম্পত্তি আদায়ের দাবি জানার জন্য, কিন্তু তিনি সময়মত সেই দাবি জানাননি।

অন্যদিকে, এই সম্পত্তির আরেক দাবিদার ছিলেন নবাব বংশের আর একজনের তরফ থেকেও। তিনি ভারতে বসবাসকারী। তবে আবিদা সুলতানের উত্তরাধিকারী। কিন্তু তাঁর এই সম্পত্তির আবেদনও খারিজ হয়ে যায় এই বলে যে মূলত যার সম্পত্তি সে যদি একবার অন্য দেশে অর্থাৎ চিন কিংবা পাকিস্তানে পাকাপাকিভাবে চলে যায় তাহলে সেই সম্পত্তির ওপর তার উত্তরাধিকার কেউ দাবি জানাতে পারবেন না। এবার এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। দেড় হাজার কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি প্রথমে ভূপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খানের ছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে তার বড় মেয়ে আবিদা সুলতান সেই সম্পত্তির অধিকারী হন। কিন্তু তিনি ১৯৬৫ সালের পরে পাকিস্তানের গিয়ে পাকাপাকিভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। অন্যদিকে সৈয়ফ আলি খানের(Saif Ali Khan) দাদী ছিলেন হামিদুল্লাহ খানের ছোট মেয়ে সাজিদা খান। সাজিদা খানের উত্তরসূরী হিসাবে সেই সম্পত্তি সৈয়ফ আলি খান, শোহা আলি খান এবং শোভা আলি খানের পাওয়ার কথা ছিল। আবিদা সুলতানের উত্তরসূরী ভারতে থেকে এই সম্পত্তি দাবি করলেও ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুসারে এনিমি প্রপার্টির অংশ পাননি। অন্যদিকে সৈয়ফ আলি খানও আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি জানাননি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

প্রসঙ্গত, ভারতবর্ষে ৯০০০ এই ধরনের এনিমি প্রপার্টি সরকারের হাতে আছে যার বাজার মূল্য একলক্ষ কোটি টাকা। এই সম্পত্তি সরকার লিজ, বিক্রি- যা কিছু করবার অধিকারী। এ বিষয়ে সৈয়ফ আলি খানের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ একে অনায়াসে আমরা ‘নবাবি চাল’ বলতেই পারি।