Nawsad Siddique: আদালতে তোলা হবে নওশাদ সহ ৯৫ জন ISF কর্মীকে, বিধায়ককে নিয়ে কী বললেন দিলীপ?

breakingnews কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে আইএসএফ (ISF)। সংশোধিত ওয়াকফ আইন (Waqf Bill) এবং SIR-এর বিরোধিতায় পথে নামেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddique)। তার নেতৃত্বে বুধবার ধর্মতলায় (Dharmatala) জমায়েত করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দলের কর্মীরা। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে পুলিশ গ্রেফতার করে নওশাদ (Nawsad Siddique) সহ ৯৫ জন আইএসএফ কর্মীকে। বৃহস্পতিবার (২১ অগস্ট) তাদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: Amit Shah: “জেলে থেকে দেশ চালানো উচিত নয়”, নতুন বিলের পক্ষে সওয়াল করে কংগ্রেসকে একহাত নিলেন অমিত শাহ

পুলিশ সূত্রে খবর, মিছিলের কোনও অনুমতি ছিল না আইএসএফের কাছে। মিছিল ধর্মতলার প্রধান সড়কে পৌঁছাতেই পুলিশ তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddique)। এরপর শুরু হয় পুলিশি হস্তক্ষেপ ও ব্যাপক ধড়পাকড়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়কের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, রাস্তা অবরোধ ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগে মামলা রুজু হয়। ধৃতদের মধ্যে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি অসুস্থ বোধ করলে তাকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফের তাকে জোড়াসাঁকো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই রাত কাটান তিনি। অন্যদিকে, আইএসএফের অন্যান্য কর্মীদের রাখা হয় সেন্ট্রাল ডিভিশনের বিভিন্ন থানায়।

ঘটনার পর নওশাদ অভিযোগ করেন, পুলিশের তরফে তার উপর শারীরিক আক্রমণ হয়েছে, এমনকি নাকে ঘুষি মারা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এমন অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্ত হবে। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে বিধায়ক সহ বাকি ধৃতদের। আদালত চত্বরে সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী ও ব্যারিকেড।

অন্যদিকে, নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে এসে গ্রেফতার প্রসঙ্গে সরকারের কড়া সমালোচনা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নওশাদ সিদ্দিকির গ্রেফতার ইস্যুতে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, “এই সরকার কোনও ভাবেই সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দিতে চায় না। তাই যারা সেই ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে, তাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। ভোটের আগে বিরোধীরা যেন বেশি সক্রিয় না হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে তৃণমূল।” তিনি আরও বলেন, “বলা হয় গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে দেশে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। অথচ এই রাজ্যে এক নির্বাচিত বিধায়ককে শুধু প্রতিবাদ করার অপরাধে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটাই কি গণতন্ত্র? সংবাদমাধ্যম তো প্রশ্ন তোলে না, কারণ ভয় আছে। একজন জনপ্রতিনিধিও যদি কথা বলার স্বাধীনতা না পান, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কেমন হতে পারে, তা ভেবে দেখুন।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

দিলীপ ঘোষের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শাসকদল নিজের বিরোধীদের ভয় পায় বলেই এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। “রাজ্যে প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। যারাই প্রশ্ন তোলে, তাদের উপর পুলিশি দমন নেমে আসে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।