নিউজ পোল ব্যুরো: ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে ভারত পাকিস্তানি (Pakistan) বিমানের জন্য বন্ধ করে দেয় আকাশসীমা (airspace)। এখনও সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি ভারত উল্টে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার না করতে দেওয়ার মেয়াদ। ভারত পাকিস্তান-নিবন্ধিত বিমান এবং পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত বা লিজ নেওয়া বিমান, যার মধ্যে সামরিক বিমানও রয়েছে, তাদের জন্য ভারতের আকাশসীমা বন্ধের সময়সীমা ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শুধু ভারত নয় পাকিস্তানও ভারতীয় বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধের সময়সীমা ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। উভয় দেশই বিমানবাহিনীর কাছে পৃথক নোটিশ (NOTAMs) জারি করে এই মেয়াদ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ৩০ এপ্রিল ভারত প্রথমবারের মতো আকাশসীমার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ২৪ মে পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তারপর থেকে প্রতি মাসে বাড়ানো হচ্ছে। ২২শে আগস্ট জারি করা NOTAM অনুসারে, পাকিস্তান-নিবন্ধিত বিমান এবং পাকিস্তান বিমান সংস্থা/অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত/মালিকানাধীন বা লিজ নেওয়া বিমান, যার মধ্যে সামরিক ফ্লাইটও অন্তর্ভুক্ত, যারা ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। পাকিস্তানও ২০ আগস্ট ভারতীয় বিমানের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ রাখার মেয়াদ বৃদ্ধি করে একটি নোটাম জারি করেছে।
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভালো, নোটাম হল বিমান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানকারী একটি নোটিশ। সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত কর্তৃক গৃহীত বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ এই নিষেধাজ্ঞা। সম্প্রতি এক তথ্যে পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল ভারতীয় নথিভুক্ত বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (PAA) ১,২৪০ কোটি টাকার (৪.১ বিলিয়ন) ক্ষতি হয়েছে। পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ২৪ এপ্রিল থেকে ৩ জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের অতিরিক্ত রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার পর আকাশসীমা বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা, আটারিতে সমন্বিত চেক পোস্ট বন্ধ করা এবং হাই কমিশনের কর্মী সংখ্যা হ্রাস করা। তাছাড়াও ভারত পাকিস্তান থেকে সমস্ত পণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আমদানির উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে এবং ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে পাকিস্তানের বন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। ধর্ম জেনে ভারতীয়দের খুন করার বদলা হিসেবেই এই সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। সেই সঙ্গেই অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে ৯টি জঙ্গিঘাটি ধ্বংস করেছে ভারত। তার পরেও পাক ড্রোন হামলার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। পাকিস্তান ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তও প্রত্যাখ্যান করে, সতর্ক করে জানিয়েছে জল প্রবাহ বন্ধ করার যে কোনও প্রচেষ্টা “যুদ্ধের পদক্ষেপ” হিসাবে বিবেচিত হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানকে সাফ বার্তা দিয়েছে জানিয়েছে জল ও রক্ত এবং সন্ত্রাসবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে হতে পারে না।
