নিউজ পোল ব্যুরো: শুরুটা ১৩১১ বছর আগে, ডাকাতদের অন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ফের দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার অলৌকিক কাহিনীর। সেখান থেকে ডাকাতদের শুদ্ধিকরণ এবং সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসা। তারপর থেকেই বীরভূমের (Birbhum) পারুয়ে কালিমা বাঁধের পাড়ের মা (badher parer ma)নামে পরিচিত কালিমায়ের ভক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মায়ের দশটি রূপ। কালি,তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, মাতঙ্গীণী, বগলা, কমলা, ছিন্নমস্তা এবং ধ্রুমাবতী। বাংলাতে মায়ের এই দশরুপের বিভিন্ন আঙ্গিকে সেই পুজো করা হয়।
আরও পড়ুন: Durga Puja 2025 : ভিজে মাটির জেরে থমকে প্রতিমা গড়ার কাজ, চিন্তায় শিল্পীরা
বীরভূমের (Birbhum) মাটিতে সতীপিঠের (satipith)একটি টুকরো পরেছিল।তাই মা কালীর পুজো (lord kalima)তারাপীঠে বিখ্যাত। কিন্তু পারুয়ের কালিমা বাঁধের পাড়ের মায়ের (badher parer ma) মাহাত্ম্য শুরু হয়েছিল ডাকাতদের(seven robbers) হাত ধরে। শুনুন, সেই কাহিনীটা। ১৩১১ বছর আগে বাংলার বনে জঙ্গলে রঘু ডাকাতের মত অনেক ডাকাত দলই ডাকাতি করে বেড়াতো। তেমনই একটি সাতজনের ডাকাতদল পারুয়ের কালিমায়ের পুজো দিতে এসেছিল। প্রথামত পুজো দেওয়ার পরেই তারা ডাকাতি করত। সেদিন কিন্ত এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। পুজোর পরেই সব ডাকাতের চোখ অন্ধ হয়ে গেল। আর মনের দুঃখে তারা মায়ের মন্দিরেই বসে থাকল। এদিকে সকালে মন্দিরে পূজারী এসে সব দেখে শুনে পুজো করে ডাকাতদের চরণামৃত দিলেন। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে এল। তারপর যেটা হল সেটা হল, ডাকাতদের মধ্যে পরিবর্তন । তারা ডাকাতি ছেড়ে ওই মন্দিরেই ভক্ত হয়ে রয়ে গেল।
দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসা ভক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে লাগল। সৌমেন দাস, মাধব মুখারজি, মিতা দাসদের মত ভক্তরা সবাই দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন বীরভূম (Birbhum) জেলার পারুয়ে বাঁধের কালীর মায়ের মন্দিরে।(badher parer ma) দশ রূপে অধিষ্ঠিত মায়ের রূপ। এর মধ্যে বীরভূমে সতীপিঠের মন্দির বিখ্যাত। আছে আরও মন্দির ও কালি মায়ের অলৌকিক মাহাত্ম্যের কাহিনী। কিন্তু ১৩১১ বছর প্রাচীন এই মন্দিরের বর্তমান পূজারী রাখহরি মুখার্জি যেমন জানাচ্ছেন, “আমাদের পূর্বপুরুষ এই মন্দিরের শুরু থেকে পুজো করে আসছে। এখানের শিলাগুলি রাতে মন্দিরের চারিদিকে চলে যায়। সকালে পূজারী বাগান থেকে নিয়ে আসে।” স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস এই মা করুণাময়ী। ভক্তের মনের চাহিদা পূরণ করা মায়ের অপার মহিমা। এক কথায় অলৌকিক। যা ভক্তিহীনের বোধের বাইরে। ভক্তের ভগবান যুগে যুগে সাড়া দেবেন এটাই স্বাভাবিক। এই আড়ম্বরহীন মায়ের মন্দিরে তাই প্রতিদিন বাড়ছে ভক্তের ঢল। এখানে বটগাছের ছায়ায় মায়ের চাতাল। প্রতিদিন হোমের আহুতিতে ভক্ত তার লোভ, লালসা, হিংসা বলি দেন। চেয়ে নেন সুখ,শান্তি আর পরিবারের ও সাধারণ মানুষের মঙ্গল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
