নিউজ পোল ব্যুরো: মণিপুরকে(Manipur) একদিকে যেমন পুবের সুইৎজারল্যান্ড বলে ভালবেসে নাম দেওয়া হয়েছে, ততটা শান্ত বোধহয় আর নেই। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ভারতবর্ষের এক ছোট্ট রাজ্যের শান্তি যে কখন অসহনীয় হয়ে উঠল সেটাই প্রশ্ন। পাহাড়ে ঘেরা এই রাজ্যে বিস্তৃত সবুজ উপত্যকা, স্বচ্ছ জলাশয় আর ঘন বনভূমি একে করে তুলেছে অনন্য। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে মনিপুরের(manipur) প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজে, যা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। কিন্তু কোন জনজাতি যখন নিজের অস্তিত্বের সংকটে পরে তখন এভাবেই নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়েও অশান্তির মধ্যে জড়িয়ে পরে।
আজকে ভারতের উত্তর পূর্ব দিকের এই ছোট্ট রাজ্যের(Manipur) একটু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। মেইতেই (Meitei) সম্প্রদায়ের জন্য (Scheduled Tribe) মর্যাদার দাবী ২৩ এপ্রিল ২০২৩–এ, একটি একক বিচারপতির বেঞ্চকে থেকে মেইতেই সম্প্রদায়কে ST তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করতে নির্দেশ দেয় । এই দাবিকে হিল এলাকায় বসবাসকারী কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা হুমকি ও রাজনৈতিক প্রভূতিতে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন । ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক দ্বন্দ্ব ছিল এর পাশেই। মেইতেই (Meitei) সম্প্রদায় মূলত উপত্যকা অঞ্চলে বসবাস করে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশি প্রভাবশালী । অন্যান্য উপজাতিরা যেমন কুকি, নাগারা পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে এবং দীর্ঘকাল ধরে একই অঞ্চল ও সম্পদ নিয়ে দ্বন্ধ রয়েছে ।
অবৈধ অনুপ্রবেশ ও শরণার্থী সমস্যাও রয়েছে মণিপুরে। মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী কুকি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ে—বিশেষত ২০২১ শীর্ষে মিয়ানমার সংঘর্ষের পর । এই অনুপ্রবেশ, মাদক ব্যবসা ও সশস্ত্র সংঘর্ষকে সমর্থন করার অভিযোগ. তাকে আরও ব্যাপক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেয় ।
এরই সঙ্গে রাজ্যের বনাঞ্চল থেকে মাইগ্রেনImigrant) এবং এবং ভূমি দ্বন্দ্ব(land clash) এক বড় অংশের মধ্যে অশান্তির বীজ বুনে দিয়েছে। চুরাচান্দপুর–খৌপুম সংরক্ষিত বন অঞ্চল থেকে কুকি গ্রামগুলোকে উদ্বাস্তু করা, বিশেষ করে সংজাং (Songjang)গ্রামের ধ্বংস, উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দেয় । বিভিন্ন স্তরের দুর্বলতা ও রাজনীতিক বিভেদে প্রত্যেকেই অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে। রাজনীতিবিদরা ও প্রশাসন প্রায়ই সমাজকে সম্প্রদায় ভিত্তিক ভাগ করে নেয়, যা বিদ্বেষ আর বিভাজনকে উৎসাহ দেয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, সশস্ত্র গ্রুপের হাতে অস্ত্রের সহজে পাওয়ার সুবিধা। এই ফ্যাক্টর গুলো সংঘর্ষকে(class struggle) আরও ইন্ধন যোগায়। মেইতেই(meitai) সম্প্রদায় প্রধানত হিন্দু, অন্য দিকে কুকি–জোট্র এক অর্থে খ্রিস্টান হলেও, ধ্রুপদী সাম্প্রদায়িক বৈরিতা নয়; বরং তা একটি জাতিগত দ্বন্দ্ব, যদিও ধর্মের আয়নায় ব্যাখ্যা করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পর্যালোচনা করলে এই সংঘর্ষ ৩ মে ২০২৩ থেকে এখনও চলছে, এবং pramanya হিসেবে ২৫৮ জন নিহত, ৬০,০০০ জন গৃহহারা । এর সঙ্গে কোলাটেরাল ড্যামেজ হিসেবে শতাধিক মন্দির ও গীর্জা ভাঙা গেছে । ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার—প্রশাসনিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে মণিপুরে যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে । অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাস, ড্রাগ ব্যবসা প্রতিরোধে বর্তমানে রাষ্ট্রজুড়ে নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে । মণিপুরের (manipur) অশান্তির এই কারণগুলোর একটা সমাধানের রাস্তা না পাওয়া পর্যন্ত ছোট রাজ্যটির পর্যটক(tourist) ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ফলে কমছে আয়(revenue)। ST প্রাপ্তির দাবি, যা মেইতেইদের জন্য সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারকে অন্যান্য উপজাতিরা হুমকি ভেবে নেন। একই সঙ্গে মেটাতে হবে পাহাড় ও উপত্যকার মধ্যেকার বিভাজনকে। পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজার উপরেই নির্ভর করছে এই রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। প্রথমে সেই দিকে। তার পাশে রাজ্যের ভিতরকার দ্বন্দ্ব বিশেষ করে মেইতেদের সঙ্গে অন্য উপজাতিদের বিরোধকে মেটাতে পারলেই এই রাজ্যের পর্যটন আবার ফিরে পেতে পারে তার আগের সম্মান। মিটবে অশান্তির আগুন।
