Nalini Jaywant: মৃত্যুর তিনদিন পরে নায়িকার শেষ খবর প্রকাশ্যে

অন্যান্য

এটা কোন গল্প নয়। কিংবা খুব ভীষণরকম অবিশ্বাস্য একটা গল্প। পাদপ্রদীপের আলো যখন থাকে তখন অনেক স্তাবক- গুণমুগ্ধদের ভিড় দেখা যায়। আর স্পট লাইট অফের সঙ্গে সঙ্গে নজর সরে যায় তাঁর উপর থেকে। যেমন হয়েছিল নলিনী জয়ন্তের ক্ষেত্রে। সেই উপেক্ষা এতটাই ভয়ংকর যে এই শিল্পীর মৃত্যুর তিনদিন পরে এক নিকট আত্মীয় খবর পেয়ে শেষকৃত্য করেন। একাকী। অথচ নলিনী আর এক দিকপাল অভিনেতা দিলীপ কুমারের প্রিয় নায়িকা ছিলেন।

আরও পড়ুন: Health News : রক্তচাপ মাপার নিয়মে ত্রুটি? নতুন গবেষণায় চিকিৎসা মহলে বিতর্ক

নলিনী জয়ন্ত ১৯২৬ সালে মুম্বাই শহরে এক কালচারাল ফ্যামিলিতে জন্মগ্রহণ করেন। নলিনীর চেহারা ছিল অত্যন্ত ‘শিশুসুলভ মিষ্টি’বা কিউট। আর এক নায়িকা নুতনের জন্মদিনের পার্টিতে মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক প্রযোজক তার প্রতিভা আবিষ্কার করেন এবং তাকে ১৯৪১ সালের রাধিকা ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। কিশোরী বয়সেই তিনি মেহবুব খানের বেহন ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তী কয়েক বছরে, ১৯৫০-এর দশকের আগে, তিনি বালরাজ সাহনি ও ত্রিলোক কপুরের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেন। তবে তার আসল সাফল্য আসে অশোক কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করার পর। ধীরে ধীরে যা পরিণত হয় প্রেমের সম্পর্কে। সমাধি এবং সংগ্রাম ছবির মাধ্যমে শুরু হয় এই জুটির সাফল্যের যাত্রা। এরপর তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন জলপরি (১৯৫২), কাফিলা (১৯৫২), নওবাহার (১৯৫২), সলোনি (১৯৫২), লকড়ি (১৯৫৪), নাজ (১৯৫৪), মিস্টার এক্স (১৯৫৭), শেরু (১৯৫৭) এবং তুফান মেঁ প্যায়ার কাহাঁ (১৯৬৩) ছবিতে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

নলিনী জয়ন্ত দিলীপ কুমার, অশোক কুমার এবং দেব আনন্দের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৫৯ সালে তিনি রাজ খোসলার কালা পানি ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন, যেখানে নায়ক ছিলেন দেব আনন্দ। কেরিয়ারের শীর্ষ সময়ে তিনি ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। দিলীপ কুমার একবার বলেছিলেন, তার চেয়ে ভালো অভিনেত্রীর সঙ্গে তিনি কখনো কাজ করেননি। কিন্তু তার প্রজন্মের আরও অনেকের মতো, মঞ্চের আলো যখন নিভে গেল, তার কেরিয়ারও ম্লান হয়ে গেল। নলিনী জয়ন্ত ২০১০ সালে মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন পর তার দেহ উদ্ধার করা হয়। বহু বছর ধরেই তিনি ছিলেন নিভৃতবাসী; আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না; চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীরাও তার খোঁজখবর রাখতেন না। অবশেষে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয় নীরবে তার দেহ নিয়ে যান। তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ অভিনেত্রী তনুজার পিসি। এই হল নলিনী জয়ন্তের গল্প।