নিউজ পোল ব্যুরো: দুর্গাপুজো মানেই শহরজুড়ে উৎসবের আবহ। নতুন পোশাক, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া, আলোকসজ্জা আর প্যান্ডেল হপিং এটাই হয়তো সবার প্রথম পছন্দ। কিন্তু শহরের কোলাহল এড়িয়ে যদি চান দু’দিন নির্জনতার ছোঁয়া, তবে এবার পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন তিন চেনা–অচেনা গন্তব্যে (Ofbeat Travel Destination)। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয় ওড়িশার ভঞ্জনগর, ঝাড়খণ্ডের পত্রাতু আর বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের দুয়ারসিনি।
আরও পড়ুন:পেন্টিং, স্কাল্পচার বা গ্রাফিক ডিজাইন, ভর্তি শুরু Government College of Art & Craft-এ
ভঞ্জনগর: দহ জলাধারের ধারে নিরিবিলি সময়

ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় পাহাড়ে ঘেরা দহ জলাধারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভঞ্জনগর নেচার ক্যাম্প। পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জলাধারের নীল জলে মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এক অন্য রকম পরিবেশ। শীতকালে জলাধারের ধারে পিকনিকের ভিড় জমে ওঠে। ভ্রমণপিপাসুরা (Ofbeat Travel Destination) এখানে উপভোগ করতে পারেন পাখি দেখা, নেচার ট্রেক বা জঙ্গল সাফারি।
এখান থেকেই ঘুরে দেখা যায় ভেটনাইয়ের কৃষ্ণসার মৃগ, বিজু পট্টনায়ক পার্ক, প্ল্যান্ট রিসার্চ সেন্টার এবং বেলেশ্বর মন্দির। যারা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় চান না, তাঁদের কাছে ভঞ্জনগর আদর্শ গন্তব্য যেখানে অলস দুপুরগুলো গল্পে আর আড্ডায় কেটে যায়।
যাওয়ার উপায়: কলকাতা থেকে ভঞ্জনগরের দূরত্ব ৬১০ কিমি। ব্রহ্মপুর হয়ে পৌঁছতে হয়। পথে খড়্গপুর, বালেশ্বর, ভদ্রক, কটক, খুরদা পেরোতে হয়। চাইলে ভদ্রক বা কটকে রাত্রিবাস করতে পারেন।
থাকার ব্যবস্থা: ওড়িশা সরকারের ব্ল্যাকবাক নেচার ক্যাম্পে জলাধারের ধারে কটেজ রয়েছে। চাইলে দহ অতিথি নিবাসেও থাকতে পারেন।
পত্রাতু: পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ থেকে উপত্যকার সৌন্দর্য

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে মাত্র ৩২ কিমি দূরে অবস্থিত পত্রাতু (Ofbeat Travel Destination)। পাহাড়কে পাক খেয়ে উপরে ওঠা সর্পিলাকার রাস্তা ধরলেই চোখে পড়বে অসাধারণ ভিউ পয়েন্ট। উপত্যকা জুড়ে ঢেউ খেলানো পাহাড় আর দূরে ঝলমলে নীল পত্রাতু জলাধার যেন ছবির মতো দৃশ্য।
পত্রাতু থেকে একদিনের সফরে ঘুরে নেওয়া যায় পালানি ফল্স, কাঁকে ড্যাম কিংবা টেগর হিল। কাছাকাছি আরও কয়েকটি দর্শনীয় জলপ্রপাত যেমন হুড্রু, জোনা বা দশম ফল্সেও ভ্রমণ করা যায়।
যাওয়ার উপায়: কলকাতা থেকে রাঁচি ৪০১ কিমি (৯-১০ ঘণ্টার পথ), সেখান থেকে আরও এক ঘণ্টা যাত্রা। লোঢাশুলি, ঘাটশিলা, গালুডি হয়ে পৌঁছতে হয়।
থাকার ব্যবস্থা: ঝাড়খণ্ড পর্যটন দফতরের পত্রায়ন বিহার ও সরোবর বিহার পর্যটক লজ জনপ্রিয়। রাঁচিতেও অসংখ্য হোটেল রয়েছে।
দুয়ারসিনি: জঙ্গলের কটেজে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা

পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তে শাল, পিয়াল, শিমুল আর মহুয়া গাছে ঘেরা গ্রাম দুয়ারসিনি (Ofbeat Travel Destination)। ছোট ছোট পাহাড় আর তার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সাতগুড়ুম নদীর কলকল ধ্বনি প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভরিয়ে তোলে। এখানকার মূল আকর্ষণ বনভূমি যেখানে দেখা মেলে নানা প্রজাতির পাখি আর বন্যপ্রাণীর।
দুয়ারসিনির কাছাকাছি আছে আদিবাসী গ্রাম, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। চাইলে গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন টটকো জলাধার বা হাতিবাড়ি।
যাওয়ার উপায়: কলকাতা থেকে ২৬২ কিমি। খড়্গপুর, লোঢাশুলি, ধলভূমগড়, ঘাটশিলা হয়ে ছ’ঘণ্টার যাত্রা। ফেরার পথে ঘাটশিলায় এক রাত থেকে গালুডি ড্যামও ঘুরে দেখা যায়।
থাকার ব্যবস্থা: দুয়ারসিনির বনোন্নয়ন নিগমের কটেজ সবচেয়ে জনপ্রিয়। জায়গা না পেলে ঘাটশিলা বা গালুডির আশপাশে থাকা যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
পুজোর ছুটিতে কলকাতার ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজতে চাইলে এই তিন জায়গা, ভঞ্জনগর, পত্রাতু আর দুয়ারসিনি, হয়ে উঠতে পারে একেবারে পারফেক্ট গন্তব্য। পাহাড়, নদী, বন আর শান্ত পরিবেশে কাটানো কয়েকটা দিন আপনার উৎসবের ছুটি হয়ে উঠবে অনন্য অভিজ্ঞতা।
