নিউজ পোল ব্যুরো: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) উত্তর-পূর্বে, রাজধানী তাসখন্দ (Tashkent) থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওবি-রাখমত গুহা (Obi-Rakhmat Cave)। সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক (Archaeology) গবেষণায় এই গুহাকে ঘিরে উঠে আসছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা বদলে দিতে পারে নিয়ানডারথাল (Neanderthal) প্রজাতি সম্পর্কে আমাদের বহু পুরনো ধারণা।
আরও পড়ুন: Chattisgarh: অবুঝমাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে খতম ৫ মাওবাদী, তীব্র হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান
এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছিল, নিয়ানডারথালেরা দক্ষ শিকারি ছিল এবং তাদের খাদ্যাভ্যাসে মাংসের আধিক্যই ছিল। তারা ঘোড়া, বাইসন, হাতি এমনকি গুহা-সিংহও শিকার করত। অস্ত্র বলতে ছিল কাঠের বর্শা, যার মাথায় পাথরের ফলা বসানো হত। কিন্তু তারা তির-ধনুক (Bow and Arrow) ব্যবহার করত—এমন প্রমাণ আগে কখনও মেলেনি। তবে ওবি-রাখমত গুহায় পাওয়া নতুন নিদর্শন সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
গুহা থেকে উদ্ধার হয়েছে ত্রিকোণাকার কিছু ছোট পাথরের টুকরো। প্রথমে সেগুলিকে সাধারণ ভাঙাচোরা বলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এদের বয়স প্রায় ৮০ হাজার বছর। গঠন অনুযায়ী এগুলি বর্শা বা ছুরির জন্য নয়, বরং তিরের ফলার জন্য উপযুক্ত। তাছাড়া পাথরের সূচালো দিকের ক্ষয়ের ধরন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলি উচ্চগতির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যা তিরের ব্যবহার ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা অনুমান করছেন, এগুলি বিশ্বের প্রাচীনতম তিরের ফলা হতে পারে। বর্তমানে তির-ধনুক ব্যবহারের প্রাচীনতম প্রমাণ ইথিওপিয়ার (Ethiopia) পূর্ব আফ্রিকায় (East Africa) পাওয়া গিয়েছে, যা প্রায় ৭৪ হাজার বছর আগেকার। তবে সেই প্রমাণ সরাসরি নিয়ানডারথালদের সঙ্গে যুক্ত নয়। অন্যদিকে উজবেকিস্তানের এই গুহা থেকে অতীতে নিয়ানডারথালের জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই তিরের ফলাগুলি কি নিয়ানডারথালেরা বানিয়েছিল, নাকি প্রারম্ভিক হোমো সেপিয়েন্স (Homo Sapiens) প্রজাতি?

গবেষকদের মতে, এই সময়কালে ইউরেশিয়া (Eurasia) অঞ্চলে নিয়ানডারথাল এবং হোমো সেপিয়েন্স উভয়েই উপস্থিত ছিল। এমনকি দুই প্রজাতির মধ্যে যোগাযোগ এবং সংকর প্রজাতি তৈরির প্রমাণও মিলেছে। ২০২৩ সালে আবিষ্কৃত এক শিশুর খুলি ও দাঁতের টুকরোয় একসঙ্গে মিলেছে উভয় প্রজাতির বৈশিষ্ট্য। এই ত্রিকোণাকার পাথরের টুকরোগুলির গঠন বিশ্লেষণ আরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—এগুলি শিকারের শরীরে গেঁথে দেওয়ার মতোই নকশা করা হয়েছিল। ফ্রান্সের (France) ম্যানড্রিন গুহা (Mandrin Cave) থেকেও অনুরূপ প্রমাণ মিলেছে, যেখানে প্রায় ৫৪ হাজার বছর আগে হোমো সেপিয়েন্সেরা তির-ধনুক ব্যবহার করেছিল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তবে ওবি-রাখমত গুহার এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, মধ্য এশিয়া ছিল ভিন্ন মানবপ্রজাতির মিলনস্থল। নিয়ানডারথালেরাও হয়তো তির ব্যবহার জানত। তাই ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই রহস্য উন্মোচনে নতুন দিশা দেবে।
