অসম সফরে ফের কংগ্রেস-বিরোধী রাজনৈতিক ভাষ্যকে নতুন মাত্রা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi Assam rally)। রবিবার দারং জেলার জনসভা থেকে তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ উত্থাপন করলেন, যা কার্যত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মেরুকরণ রাজনীতির ইঙ্গিত স্পষ্ট করল। একদিকে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষাকর্তা ও পাকিস্তানি জঙ্গিদের সমর্থক আখ্যা পেল কংগ্রেস, অন্যদিকে মায়ের অপমান প্রসঙ্গে নিজেকে ভগবান শিবের ভক্ত, সমস্ত বিষ হজম করা ‘নীলকণ্ঠ’ রূপে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর কণ্ঠে অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘ কয়েক দশক অসম শাসন করেও রাজ্যের উন্নয়নকে স্তব্ধ করে রেখেছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে মাত্র তিনটি সেতু নির্মাণ করেছে তারা। অথচ গত দশ বছরে বিজেপি সরকার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ছয়টি সেতু তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, অসমের সাংস্কৃতিক গৌরব ভূপেন হাজারিকাকেও যথাযথ মর্যাদা দেয়নি কংগ্রেস। বিপরীতে, ডবল ইঞ্জিন সরকার তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েছে বলে দাবি করেন মোদী।
তবে রাজনৈতিক আক্রমণের মূল সুর ছিল অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে। জনসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বিজেপি অনুপ্রবেশকারীদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে সদা সচেষ্ট। অথচ কংগ্রেস ঢাল হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করেছে। ভারতের বীর সেনাদের পাশে না দাঁড়িয়ে তারা পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করেছে।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার পদক্ষেপকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেন—অবৈধ দখলদারদের উৎখাত করে কৃষকদের হাতে জমি ফিরিয়ে দেওয়া, তাঁর মতে, রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এমন প্রেক্ষাপটেই মোদী বিরোধীদের সাম্প্রতিক কটুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশ করেন। বিহারের দ্বারভাঙায় ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিতে তাঁর মা হীরাবেন মোদিকে লক্ষ্য করে কটুক্তি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গে জনসভায় তিনি বলেন, “আমাকে যতই গালিগালাজ করা হোক, আমি শিবভক্ত। ভগবান শিব যেমন সমুদ্রমন্থনের বিষ গিলে নীলকণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন, আমিও সমস্ত বিষ হজম করতে পারি। আমার হৃদয়ের ঈশ্বর কিন্তু দেশের ১৪০ কোটি মানুষ। জনতাই আমার জনার্দন, আমার পূজনীয়, আমার জীবনের রিমোট কন্ট্রোল।”
মোদীর (Narendra Modi Assam rally) বক্তৃতা একদিকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ, অন্যদিকে আবেগের পরিপূর্ণ প্রকাশ। কংগ্রেসকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে চিহ্নিত করে পাকিস্তান ও অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে ভোটারদের মানসে হিন্দুত্বের আবেগ উস্কে দেওয়া, আর ব্যক্তিগত অপমানকে পৌরাণিক শিবভক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিজের ত্যাগ ও সহনশীলতার চিত্র তুলে ধরা—এই দুই স্তম্ভের উপরেই ভর করেছে তাঁর বক্তৃতা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এআইইউডিএফ দুর্বল হয়ে পড়ায় মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ কংগ্রেসমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। তাই কংগ্রেসকে ‘পাক-সমর্থক’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীর রক্ষাকর্তা’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই তীব্র আক্রমণ কেবল জনসভামুখী বক্তব্য নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনী অঙ্কে বিজেপির কৌশলগত মেরুকরণ রাজনীতিরই ইঙ্গিত।
